জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ ইসলামী আন্দোলনের

প্রকাশিত: ৫:৩০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে অভ্যুত্থানের ইতিহাস আংশিকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে এবং একে পূর্ণাঙ্গ হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফ। শনিবার জাদুঘর পরিদর্শনের পর তিনি এ ধরনের উপস্থাপনাকে ইতিহাস বিকৃতির পাঁয়তারা হিসেবে অভিহিত করেন।

শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছিল একটি নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ার স্বপ্নে। কিন্তু আন্দোলনের সামনের সারির কিছু নেতা পুরাতন শাসনব্যবস্থাকেই নতুন মোড়কে উপস্থাপন করেছেন, যার প্রতিফলন এই জাদুঘরেও পড়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, জাদুঘরে ইসলামপন্থীদের ভূমিকা এবং বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের অবদানের কথা যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, আবু সাঈদ শহীদ হওয়ার পর ১৯ জুলাই পীর সাহেব চরমোনাই ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে যে সাহসী প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন, তা আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করেছিল।

আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি যেমন—৩, ৪ ও ৫ আগস্ট ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাজপথে কর্মসূচি এবং শেখ হাসিনার পদত্যাগের জোরালো দাবির মতো বিষয়গুলো জাদুঘরে স্থান না পাওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

পরিদর্শনকালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি কেএম শরীয়াতুল্লাহ বলেন, এত বড় একটি প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি টিকেটিং ও চেকিং সিস্টেমের দুর্বলতা এবং ইতিহাসের খণ্ডিত উপস্থাপনকে জনগণের আবেগের সঙ্গে আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেন। কেএম শরীয়াতুল্লাহ সরকারকে দ্রুত বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস সংরক্ষণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে এই জাদুঘর মানুষের কাছে হাসির খোরাক হতে পারে।

পরিদর্শনকারী প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন নগর সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন, জয়েন্ট সেক্রেটারি ফজলুল হক মৃধা, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুফতি আবদুল আহাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা কামাল হোসাইন, তরিক মাসউদ, প্রচার সম্পাদক প্রভাষক শফিকুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মাওলানা গাজী নাজিমুদ্দীন, ছাত্রী ও মহিলা ইউনিট সম্পাদক হাফেজ মাওলানা মাহবুবুর রহমান, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক আকন, সহ-প্রচার সম্পাদক হাফেজ মাওলানা আব্দুর রহমান, সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মাদ বিলাল হোসাইন পাটোয়ারী, সহ-দাওয়াহ ও জনশক্তি সম্পাদক মাওলানা নিজাম উদ্দীন, সহ-ছাত্রী ও মহিলা ইউনিট সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মাদ আবু বকর, সহ-নির্বাচন ও জনপ্রতিনিধি সম্পাদক মুহাম্মাদ আবু হানিফ, মাওলানা খোরশেদ আলম এবং আরিয়ান মো. ইমন।