২০২৮ সাল থেকে শিক্ষাক্রমে বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ সরকারের

প্রকাশিত: ১:২৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০২৬

দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে মেধা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে পুনর্গঠন করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানিয়েছেন, ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে জাতীয় শিক্ষাক্রমের ব্যাপক ও বিস্তৃত সংস্কার করা হবে। এই সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য হলো বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি টেকসই ও যুগান্তকারী শিক্ষাক্রম রূপরেখা তৈরি করা। তিনি জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ৪টি নতুন বই ও বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে।

এই রূপান্তরের প্রথম ধাপ হিসেবে আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই পাঠ্যক্রমে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং খেলাধুলাবিষয়ক নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে যুক্ত হওয়া নতুন বইগুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের রোবটিকস এবং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিক্ষার সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সায়েন্স ফেলোশিপের সুযোগ রাখা হয়েছে, যেখানে বছরে ৯৮ হাজার ডলার পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

শিক্ষা উপদেষ্টার মতে, বিগত সময়ে জিপিএ-৫-এর কৃত্রিম বন্যা ও পরীক্ষা ছাড়া পাস করানোর সংস্কৃতি শিক্ষাব্যবস্থাকে ভুল বার্তা দিয়েছিল। তিনি জানান, বর্তমান সরকার সেই আত্মঘাতী পথ বন্ধ করে শতভাগ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ মূল্যায়নের ওপর জোর দিচ্ছে। যারা ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি, তাদের জন্য বিশেষ পলিসি গ্রহণ করা হচ্ছে। এসব শিক্ষার্থীকে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) ও ভোকেশনাল কোর্সের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।

সরকার কর্মসংস্থানের চাহিদা ও জোগানের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করতে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ বা কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মাহদী আমিন বলেন, এর মাধ্যমে স্থানীয় তরুণ-তরুণীরা তাদের দক্ষতার বিবরণ দিয়ে নিবন্ধন করতে পারবেন, যা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে তাদের সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে। এছাড়া শিক্ষকদের ডিজিটাল ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণার সংস্কৃতি বাড়াতে স্থানীয় শিল্পের সমস্যা সমাধানে যৌথ গবেষণার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশি গবেষকদের দেশে ফিরিয়ে এনে ‘ব্রেন ড্রেন’-কে ‘ব্রেন সার্কুলেশন’-এ রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রামীণ ও শহরের বিদ্যালয়ের মধ্যে বৈষম্য দূর করতে দেশব্যাপী বিভিন্ন জাতীয় প্রতিযোগিতা চালুর কথাও জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা। মাহদী আমিন বলেন, সনদসর্বস্ব শিক্ষার পরিবর্তে দক্ষতা ও নৈতিকতা সম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তোলাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।