৩ হাজার ৮০০-র বেশি স্থানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে ইরান

প্রকাশিত: ২:০১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৫ পিএম

ইরানের আকাশসীমা সুরক্ষায় দেশজুড়ে ৩ হাজার ৮০০টিরও বেশি স্থানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপ-সমন্বয়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাদেঘিয়ান এই তথ্য জানিয়েছেন। ইরানের মেহের নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে এই খবর জানা গেছে।

মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাদেঘিয়ান এই ঘোষণা দেন। খাতাম আল-আনবিয়া এয়ার ডিফেন্স বেস প্রতিষ্ঠার বার্ষিকী ও জাতীয় বিমান প্রতিরক্ষা দিবস উপলক্ষে তিনি এই সাক্ষাৎকার দেন।

মোহাম্মদ সাদেঘিয়ান জানান, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল দায়িত্ব চারটি। এগুলো হলো— আকাশপথে আসা যেকোনো লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করা, সেটির ওপর নজরদারি চালানো, বাধা প্রদান করা এবং প্রয়োজন হলে তা ধ্বংস করা। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের আকাশসীমার ভেতরে এবং বাইরে যেকোনো উড়ন্ত বস্তুকে প্রথমে শনাক্ত করা হয়। এরপর সেগুলোর পরিচয় নিশ্চিত হয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী যুদ্ধবিমান বা ক্ষেপণাস্ত্রভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো শত্রুপক্ষের বিমানকে তাদের মিশন সম্পন্ন করতে বাধা দেওয়া এবং প্রয়োজনে তা ধ্বংস করে দেওয়া।

সাদেঘিয়ানের মতে, শুধু যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেই নয়, শান্তিকালেও আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করা সব যাত্রীবাহী বিমান, দেশের বিভিন্ন শহরের মধ্যে চলাচলকারী উড়োজাহাজ এবং উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত হেলিকপ্টার বা বিমানসহ সব ধরনের আকাশযান বিমান প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষের সমন্বয় ও অনুমতির মাধ্যমেই পরিচালিত হয়ে থাকে।

তিনি জানান, দেশের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য বিবেচনা করে মরুভূমি, উপকূল, দ্বীপাঞ্চল এবং পাহাড়ি এলাকাসহ সব ধরনের স্থানেই প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন রাখা হয়েছে। উন্নত রাডার নেটওয়ার্ক, ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল ব্যবস্থা এবং আধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ নজরদারি ইউনিটের সাহায্যে ২৪ ঘণ্টা ইরানের আকাশসীমা ও এর বাইরের আকাশপথ পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।