ফের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলায় হতাহতের দাবি প্রকাশিত: ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ কয়েক সপ্তাহের বিরতির পর ফের সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মঙ্গলবার দুই দেশের মধ্যে গত কয়েক সপ্তাহে সবচেয়ে বড় পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াশিংটন আরও ভয়াবহ হামলার হুমকি দিয়েছে। অন্যদিকে ইরান অভিযোগ করেছে যে, হরমুজ প্রণালির কাছে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলায় পাঁচজন নিহত ও অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে চার বছরের একটি শিশুও রয়েছে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ এক প্রাদেশিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আহতের সংখ্যা ৬৮ বলে জানিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মঙ্গলবার ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে এক দফা হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, সামুদ্রিক স্থাপনা, মাইন পাতা ও মাইন-সংক্রান্ত সক্ষমতা এবং যোগাযোগ অবকাঠামো। ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির আশপাশে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে অনুমতি ছাড়া চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজগুলোকে ইরান হুমকি দিয়ে আসছিল। জবাবে ইরান জর্ডান ও ইরাকে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় এরবিলে মার্কিন ঘাঁটিতে স্থলবাহিনীর সমন্বয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে এবং এতে কয়েকজন মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে ইরাক বা যুক্তরাষ্ট্র কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত এই দাবি নিশ্চিত করেনি। রয়টার্সের ভাষ্যমতে, জর্ডানে বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ইরানি দাবি সত্ত্বেও মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, প্রাথমিক মূল্যায়নে সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১০টি ভূপাতিত করেছে এবং তিনটি প্রত্যন্ত এলাকায় পড়েছে। বাহরাইনও জানিয়েছে, ইরানের ছোড়া ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলা জুলাইয়ের পর দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম বড় ধরনের সরাসরি সামরিক সংঘর্ষ। যুদ্ধের কারণে উভয় পক্ষই চাপের মুখে রয়েছে। ইরানের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সামরিক সক্ষমতাও দুর্বল হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে; নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজনৈতিক চাপের সম্মুখীন। এছাড়া মার্কিন সেনাবাহিনীর উচ্চনির্ভুল দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে আসায় ভবিষ্যৎ সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনাটি নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি মার্কিন কর্মকর্তারা। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে যুদ্ধের প্রথম দিন মিনাবের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ১৬০ জন নিহত হওয়ার ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এসব ঘটনার জবাব দৃঢ়ভাবে দেওয়া হবে এবং যারা নীরব রয়েছে বা তা ন্যায্যতা দেওয়ার চেষ্টা করছে, তারাও এর পরিণতি থেকে রেহাই পাবে না। হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে এই উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর চাপ বাড়িয়েছে। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: ইরানযুক্তরাষ্ট্রসংঘাতসামরিক হামলাহরমুজ প্রণালি