দিশা সালিয়ানের মৃত্যুতে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ বম্বে হাইকোর্টের প্রকাশিত: ১:৩০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের সাবেক ব্যবস্থাপক দিশা সালিয়ানের মৃত্যু রহস্য উন্মোচনে বড় নির্দেশ দিয়েছেন বম্বে হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি সারাং কোটওয়াল ও বিচারপতি রণজিৎ সিং ভোসলের ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। গত বছর দিশার বাবা সতীশ সালিয়ান মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন, যেখানে তিনি শিবসেনা নেতা আদিত্য ঠাকরের নামও উল্লেখ করেছিলেন। ২০২০ সালের ৮ জুন মুম্বাইয়ের মালাডের একটি বহুতল ভবনের ১৪ তলা থেকে পড়ে দিশা সালিয়ানের মৃত্যু হয়। তৎকালীন সময়ে মুম্বাই পুলিশ ঘটনাটিকে কেবল দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করেছিল। তবে শুরু থেকেই দিশার বাবা এই মৃত্যুকে ঘিরে সন্দেহ প্রকাশ করে আসছিলেন। তাঁর অভিযোগ, দিশাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে এবং কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে বাঁচাতে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছে। নব ভারত টাইমস পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বম্বে হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী এখন সিবিআই মামলার তদন্ত করবে। আদালত এ জন্য একজন জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তে কোনো গুরুতর অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সিবিআইকে দ্রুত অভিযোগপত্র জমা দিতে হবে। আর যদি তেমন কোনো প্রমাণ না পাওয়া যায়, তবে উপযুক্ত আদালতে মামলা বন্ধের জন্য ‘ক্লোজার রিপোর্ট’ জমা দিতে হবে। আদিত্য ঠাকরেকে এ মামলায় অভিযুক্ত করার দাবি নিয়ে আদালত গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। বিচারপতিরা জানান, তদন্তকারী কর্মকর্তা কারও বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত তাঁকে অভিযুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। দিশার বাবার অভিযোগ সত্যি হতে পারে আবার ভুলও হতে পারে, তবে পরিবারের কাছে একটি চূড়ান্ত উত্তর পৌঁছানো প্রয়োজন ছিল বলে পুলিশকে এফআইআর দায়ের না করার বিষয়ে মৌখিকভাবে ভর্ৎসনা করেন আদালত। দিশার বাবার আইনজীবী নীলেশ ওঝা অভিযোগ করেন যে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দিশার বাবাকে জানানোর ক্ষেত্রে মুম্বাই পুলিশ দীর্ঘ পাঁচ বছর সময় নিয়েছে। মহারাষ্ট্র সরকার আদালতে জানায়, তদন্তে দিশার আত্মহত্যা বা দুর্ঘটনাবশত পড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল এবং কাউকে অভিযুক্ত করার মতো কোনো প্রমাণ তারা পায়নি। আদিত্য ঠাকরের আইনজীবী সুদীপ পাসবোলা এই আবেদনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেন। সরকারি পক্ষ আরও জানায়, ২০২০ সালের অক্টোবরেই এডিআর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, তবে পরে নতুন সরকার গঠনের পর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি পুনরায় খতিয়ে দেখা হয়। শেষ পর্যন্ত হাইকোর্ট সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত আদিত্য ঠাকরে বা অন্য কাউকে অভিযুক্ত হিসেবে গণ্য করা যাবে না। SHARES বিনোদন বিষয়: দিশা সালিয়ানবম্বে হাইকোর্টমহারাষ্ট্রসিবিআইসুশান্ত সিং রাজপুত