ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীদের চুল ও মেকআপে ব্যয় ৪ লাখ ৭০ হাজার ডলার

প্রকাশিত: ৫:৩০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬

২০১৯ সাল থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীদের চুল সাজানো, মেকআপ এবং আনুষঙ্গিক সাজসজ্জার পেছনে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে প্রায় ৪ লাখ ৭০ হাজার ডলার ব্যয় করা হয়েছে। তথ্য অধিকার আইনের আওতায় করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আইনজীবী ইয়ারা উইঙ্কলার-শালিত এই আবেদনটি করেছিলেন।

প্রকাশিত নথিতে দেখা গেছে, এই বিপুল ব্যয়ের সিংহভাগই হয়েছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও তার স্ত্রী সারার পেছনে। ২০১৯ সাল থেকে চুল ও মেকআপ খাতে হওয়া মোট খরচের প্রায় ৯০ শতাংশই তাদের সময়ে ব্যয় হয়েছে। তবে জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত হেয়ারস্টাইলিস্ট ও মেকআপ শিল্পীদের নাম নথিতে গোপন রাখা হয়েছে।

বিভিন্ন মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীদের সাজসজ্জা ব্যয়ের মধ্যে বড় ধরনের তারতম্য লক্ষ্য করা গেছে। যেমন, ২০২৩ সালে এ খাতে মোট ব্যয় ছিল প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার ডলার। অথচ ২০২২ সালে নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের যৌথ মেয়াদে এই খরচ ছিল মাত্র ২৭ হাজার ৬০০ ডলার। এরপর ২০২৫ সালে এই ব্যয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়, যার পরিমাণ ছিল প্রায় ১ লাখ ১১ হাজার ডলার। এই খরচের বড় অংশই ছিল প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের সময়। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটন সফরের সময় নেতানিয়াহুর মেকআপ ও চুল সাজাতে প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ ডলার খরচ হয়, আর ২০২৪ সালের জুলাইয়ে একই সফরে ব্যয় হয়েছিল ১১ হাজার ৫০০ ডলার।

নথিতে উঠে এসেছে ২০২৩ সালের শেষভাগে ইসরাইল-হামাস যুদ্ধ শুরুর সময়কার ব্যয়ের চিত্রও। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে প্রধানমন্ত্রীর চুল সাজাতে প্রায় ২ হাজার ৬০০ ডলার এবং মেকআপে প্রায় ১ হাজার ৫৮০ ডলার খরচ হয়। এর মধ্যে কেবল যুদ্ধ শুরুর মাস অর্থাৎ অক্টোবরেই চুল সাজানোর পেছনে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৮১০ ডলার।

চুল ও মেকআপ ছাড়াও পোশাক ও অতিথি আপ্যায়নসহ অন্যান্য সরকারি প্রতিনিধিত্ব ভাতার হিসাবও প্রকাশ করা হয়েছে। নেতানিয়াহুর মেয়াদে এ খাতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ডলার। এর বিপরীতে নাফতালি বেনেটের সময়ে এই খরচ ছিল ১৯ হাজার ডলার এবং ইয়ার লাপিদের সময়ে ছিল মাত্র ২ হাজার ষণশত ডলার। তবে গয়না, পোশাক বা ইমেজ কনসালট্যান্টদের পেছনে ঠিক কত টাকা ব্যয় হয়েছে, সেই তথ্য প্রকাশ করেনি ইসরাইল সরকার, যদিও ‘মুভমেন্ট ফর ফ্রিডম অব ইনফরমেশন’ এই তথ্যগুলোও চেয়েছিল।