অতিরিক্ত কেনাকাটার নেশা কি মানসিক সমস্যার লক্ষণ? জেনে নিন প্রতিকার প্রকাশিত: ১২:০৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ প্রয়োজনের জিনিস কেনার পাশাপাশি শখের বশে কেনাকাটা করা অনেকেরই পছন্দ। নতুন পোশাক, জুতা কিংবা পছন্দের সামগ্রী কেনার মধ্যে অনেকে আনন্দ খুঁজে পান। তবে যখন এই কেনাকাটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং অপ্রয়োজনীয় জিনিস বারবার কেনার ইচ্ছা তৈরি হয়, তখন বিষয়টি নিয়ে সতর্ক হওয়া জরুরি। বর্তমানে অনলাইন শপিং সহজলভ্য হওয়ায় ঘরে বসেই মুহূর্তের মধ্যে কেনাকাটা করা সম্ভব, যার ফলে অনেকে দিনের বড় একটি সময় বিভিন্ন শপিং প্ল্যাটফর্মে ব্যয় করেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া এই কেনাকাটার প্রবণতাকে 'বাইং-শপিং ডিসঅর্ডার' (বিএসডি) বা 'কমপালসিভ বাইং-শপিং ডিসঅর্ডার' হিসেবে অভিহিত করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধরনের সমস্যার সঙ্গে বিষণ্নতা, উদ্বেগ ও একাকিত্বের মতো মানসিক সমস্যার গভীর সম্পর্ক থাকতে পারে। অনেকের কাছে কেনাকাটা সাময়িকভাবে মন ভালো করার উপায় হিসেবে কাজ করে। একাকিত্ব, মন খারাপ কিংবা মানসিক চাপ থেকে স্বস্তি পেতে তারা বারবার কেনাকাটার দিকে ঝুঁকে পড়েন। তবে নতুন কিছু কেনার পর যে ভালো লাগা তৈরি হয়, তা স্থায়ী হয় না এবং বারবার নতুন কিছু কেনার তাগিদ তৈরি হয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি ব্যক্তিগত অর্থনীতি, পারিবারিক সম্পর্ক ও দৈনন্দিন জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সমস্যাটি চিহ্নিত করার জন্য কিছু সতর্কতামূলক লক্ষণ রয়েছে। যেমন—প্রয়োজন না থাকলেও বারবার পণ্য কেনা, কেনাকাটা বন্ধ করতে না পারা, কেনার পর অপরাধবোধ তৈরি হওয়া, আর্থিক সংকটের মুখেও কেনাকাটা চালিয়ে যাওয়া কিংবা মন খারাপ হলে অনলাইনে পণ্য খোঁজা। নিয়মিত এমন আচরণ প্রকাশ পেলে একে হালকাভাবে না নেওয়াই শ্রেয়। এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে পরিবার ও কাছের মানুষের সহযোগিতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আক্রান্ত ব্যক্তিকে দোষারোপ না করে তার আচরণের কারণ বোঝার চেষ্টা করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে, যেখানে কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপিসহ (সিবিটি) বিভিন্ন পদ্ধতি সহায়ক হতে পারে। এছাড়া অনলাইন শপিংয়ের অভ্যাস নিয়ন্ত্রণে ফোন থেকে শপিং অ্যাপ সরিয়ে ফেলা, অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ করা কিংবা কেনাকাটার আগে নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করার মতো কৌশল অবলম্বন করা যেতে পারে। কেনাকাটা আনন্দের অংশ হতে পারে, তবে তা যেন দৈনন্দিন জীবন, আর্থিক স্থিতি বা মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব না ফেলে, সেদিকে নজর রাখা জরুরি। SHARES ফিচার বিষয়: অনলাইন শপিংকেনাকাটাবাইং-শপিং ডিসঅর্ডারমানসিক স্বাস্থ্যলাইফস্টাইল