জ্বালানি নিরাপত্তায় সৌদি আরব ও কাতারের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১২:৩৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০২৬

বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, দীর্ঘমেয়াদি গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগের পরিধি বাড়াতে সৌদি আরব ও কাতারের সাথে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত ১৭তম ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি ফোরামের (আইইএফ-১৭) ফাঁকে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আজ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনের সময় সৌদি আরবের বিদ্যুৎ বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী নাসের আল-কাহতানির সঙ্গে বৈঠক করেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী। বৈঠকে আলোচনার শুরুতে রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতি বিদ্রোহীদের ভয়াবহ হামলায় নিহতদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং একই সঙ্গে হামলার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, কঠিন সময়ে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ সৌদি আরবের পাশে রয়েছে। সৌদি ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো শোকবার্তার বিষয়টিও তিনি বৈঠকে তুলে ধরেন। এছাড়া উক্ত হামলায় প্রাণ হারানো দুই বাংলাদেশির মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সৌদি সরকারের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন প্রতিমন্ত্রী।

বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখতে সৌদি সরকারের সহযোগিতা চাওয়া হলে সৌদি মন্ত্রী বাংলাদেশকে ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সৌদি সরকারের কাছে বাংলাদেশ সবসময়ই বিশেষ গুরুত্ব পায়। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও জ্বালানি খাতের সুরক্ষায় চলমান সহায়তা আরও সম্প্রসারিত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জ্বালানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে একটি সমঝোতা কাঠামো তৈরি এবং উভয় দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে মতবিনিময়ের ওপর জোর দেন প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে বৈঠকে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সহযোগিতা, স্থলভিত্তিক এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) টার্মিনাল নির্মাণ এবং অনশোর ও অফশোর গ্যাস অনুসন্ধানের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

দিনের অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় কাতারের জ্বালানি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবং কাতার এনার্জির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী সাদ শেরিদা আল-কাবির সঙ্গে বৈঠক করেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এ সময় বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা মেটাতে বিদ্যমান এলএনজি আমদানি প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করা হয় এবং নতুন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি সম্পাদনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হয়। একই সঙ্গে সৌদি ভিত্তিক বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান এসিডব্লিউএ (ACWA) পাওয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সামির জে. সেরহানের সঙ্গে পৃথক এক বৈঠকে দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হলে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করে। এসব বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল ও রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।