ফিনটেক খাতে এআইয়ের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা প্রকাশিত: ৭:৩০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০২৬ ২০২৩ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে ফিনটেক বা আর্থিক প্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এক বড় পরিবর্তনের সূচনা করেছে। গ্রাহকসেবা থেকে শুরু করে আর্থিক লেনদেনের মৌলিক ধারণায় এআইয়ের প্রভাব এখন স্পষ্ট। বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্বেই এই প্রযুক্তি যেমন নতুন সুযোগের দুয়ার খুলে দিচ্ছে, তেমনি তৈরি করছে নানামুখী চ্যালেঞ্জ। রাজধানীর একটি হোটেলে গত শনিবার অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ ফিনটেক সামিট’-এর ষষ্ঠ সংস্করণে এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বাংলাদেশ ফিনটেক ফোরামের উদ্যোগে ও বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের আয়োজনে দিনব্যাপী এই সম্মেলনে ডিজিটাল ব্যাংকিং, নগদবিহীন লেনদেন, আর্থিক খাতের রূপান্তর এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির নানা দিক উঠে আসে। বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের গ্রুপপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী সম্পাদক সাজিদ মাহবুব বলেন, ফিনটেক খাতের অগ্রগতি নির্ভর করছে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে টেকসই আর্থিক সক্ষমতা তৈরির ওপর। উদ্ভাবনের মাধ্যমে সেবাকে সহজলভ্য করার পাশাপাশি মানুষের আস্থা অর্জন করা জরুরি। এ জন্য নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্মিলিতভাবে ভবিষ্যতের আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তোলার তাগিদ দেন তিনি। প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতার ওপর জোর দিয়ে র্যাপটাসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইউসুপ ফারুক বলেন, দ্রুত বর্ধনশীল এই শিল্পে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও মানুষের নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। অননুমোদিত কোনো এআই এজেন্ট যেন গ্রাহকের ব্যক্তিগত বা সংবেদনশীল আর্থিক তথ্য হাতিয়ে নিতে না পারে, সে জন্য কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। বিশেষ করে ঋণ-ঝুঁকি মূল্যায়ন ও কেওয়াইসি যাচাইকরণের মতো কাজে এআই যেন কোনো বৈষম্যমূলক বা ভুল সিদ্ধান্ত না নেয়, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এছাড়া এআই মডেল প্রশিক্ষণে প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য ব্যবহারের স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন। ট্রান্সফাই গ্লোবালের প্রধান ব্যাংকিং ও নেটওয়ার্ক কর্মকর্তা নওশাদ হুসেইন জানান, আসিয়ান ও দক্ষিণ এশিয়ার ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। সুপার অ্যাপ, ডিজিটাল ওয়ালেট এবং পেমেন্ট পরিকাঠামোর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে এক বিপ্লব ঘটছে। কিউব মানি ইউকের সহপ্রতিষ্ঠাতা গাজী ইয়ার মোহাম্মদ বলেন, প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ব্যাংকগুলোকে ডিজিটাল চিন্তাধারাকে গুরুত্ব দিতে হবে। নিরবচ্ছিন্ন অ্যাপ সেবা, দ্রুত ঋণ অনুমোদন এবং ২৪/৭ সমর্থন গ্রাহক অভিজ্ঞতার মূল চাবিকাঠি। এছাড়া ডিজিটাল ব্যাংকগুলো পরিচালন ব্যয় কমিয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দিচ্ছে। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, আর্থিক জালিয়াতি শনাক্ত ও ঋণ মূল্যায়নে এআই বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনলেও এর টেকসই অগ্রগতির জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কঠোর নজরদারি ও প্রশাসনিক জবাবদিহি অপরিহার্য। সম্মেলনে দেশের ডিজিটাল আর্থিক খাতের অগ্রগতি ও সেবার মানোন্নয়নে অবদান রাখা ২১টি ফিনটেক উদ্যোগকে সম্মাননা দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, এই সম্মাননা তাদের প্রচেষ্টার স্বীকৃতি যারা আর্থিক সেবাকে আরও কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য করতে কাজ করছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই অর্জন নতুন নতুন উদ্ভাবনী ধারণায় বিনিয়োগ বাড়াবে এবং বাংলাদেশের আর্থিক ভবিষ্যৎকে আরও শক্তিশালী করবে। SHARES প্রযুক্তি বিষয়: এআইডিজিটাল ব্যাংকিংপ্রযুক্তিফিনটেকবাংলাদেশ ফিনটেক সামিট