সন্দ্বীপ চ্যানেলে অভিযান

প্রকাশিত: ৯:৩৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০২৬

সাগরে মাছ ধরার সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সন্দ্বীপ চ্যানেলে অভিযান চালিয়ে সাত টন মা ইলিশ জব্দ করেছে সীতাকুণ্ড উপজেলা মৎস্য বিভাগ। গত ১১ অক্টোবর দুপুর ১২টা থেকে শুরু হয়ে সোমবার ভোর ছয়টা পর্যন্ত টানা ১৮ ঘণ্টা এই গভীর সমুদ্র অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে ভোলা থেকে আসা চারটি মাছ ধরার নৌকার জেলেদের আটক করা হয়। অভিযানের সময় নৌকায় থাকা জেলেরা দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করেন এবং পরে ব্যর্থ হয়ে পানিতে ঝাঁপ দিয়ে পালানোর ব্যর্থ চেষ্টা চালান। এই অভিযানে সীতাকুণ্ড উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মোতাছিম বিল্লাহ্ নেতৃত্ব দেন এবং তাকে সহায়তা করে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার মো. ইকবাল হোসাইন ও তার দল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এমন তথ্য পেয়ে উপজেলা মৎস কর্মকর্তা মো. মোতাছিম বিল্লাহের নেতৃত্বে সমুদ্রে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এক পর্যায়ে তারা ব্যর্থ হয়ে নৌকা থেকে লাফ দিয়ে পালানোর চেষ্টাও করে। এ সময় চারটি নৌকার মধ্যে প্রায় ৭ টন ইলিশ মাছ পাওয়া যায়। তার ধারাবাহিকতায় এই অভিযানটি পরিচালনা করে সফল হতে পেরেছি।

মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মা ইলিশের প্রজনন রক্ষায় সরকার ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুদ ও কেনাবেচাসহ সব ধরনের আহরণ নিষিদ্ধ করেছে। এই সময়ে জেলেদের জীবিকা সচল রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে চালসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। তবে এসব নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জেলেরা গভীর সমুদ্রে ইলিশ শিকার করছিলেন। জব্দকৃত ইলিশের বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় অর্ধকোটি টাকা এবং মাছ শিকারে ব্যবহৃত এক লাখ মিটার কারেন্ট জালের মূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা। জব্দ করার পর জালগুলো পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

আইনি পদক্ষেপ হিসেবে আটক চারটি নৌকার মালিককে মোট তিন লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ মা ইলিশ স্থানীয় এতিমখানা, মাদ্রাসা, লিল্লাহ বোর্ডিং এবং দুস্থ পরিবারের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মোতাছিম বিল্লাহ্ জানান, মা ইলিশ রক্ষা ও প্রজনন বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রাকে তিনি একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন। এই সফল অভিযানের মাধ্যমে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও ইলিশ রক্ষায় এমন অভিযান চলমান থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।