ফিফার এক দশকে জিয়ান্নি ইনফান্তিনো: সাফল্য ও বিতর্কের দোলাচল প্রকাশিত: 9:02 AM, August 2, 2026 বিশ্বফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি হিসেবে এক দশক পূর্ণ করলেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ২০১৬ সালে সেপ ব্ল্যাটারের বিদায়ের পর যখন তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন ফিফা দুর্নীতি, আর্থিক সংকট এবং আস্থাহীনতার এক গভীর সংকটে নিমজ্জিত ছিল। সেই সময়ে প্রায় ৫৫ কোটি ডলারের আর্থিক ঘাটতি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন তিনি। তবে ১০ বছর পর এখন ফিফা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আর্থিকভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী। ইনফান্তিনোর অধীনে ফিফার আয় রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩-২৬ অর্থচক্রে সংস্থার আয় ১৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর পথে রয়েছে। এই আর্থিক সাফল্যের পেছনে রয়েছে ৩২ থেকে ৪৮ দলে বিশ্বকাপ সম্প্রসারণ এবং নতুন ফরম্যাটের ক্লাব বিশ্বকাপ চালুর মতো উদ্যোগগুলো। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর সদস্য দেশগুলোর জন্য উন্নয়ন তহবিল বৃদ্ধি এবং নতুন টুর্নামেন্ট শুরুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যা অনেক ছোট ও আর্থিকভাবে দুর্বল ফুটবল ফেডারেশনের জন্য সহায়ক হয়েছে। তবে এই সাফল্যের পাশাপাশি ইনফান্তিনোকে ঘিরে বিতর্ক ও সমালোচনার অন্ত নেই। কাতার বিশ্বকাপের সময় মানবাধিকার ইস্যুতে তার মন্তব্য বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। এছাড়া সৌদি আরবকে ২০৩৪ বিশ্বকাপ আয়োজনের পথ সহজ করে দেওয়া, খেলোয়াড়দের সংগঠনের আপত্তি উপেক্ষা করে নতুন টুর্নামেন্টের সূচি নির্ধারণ এবং নিজের বেতন বৃদ্ধি নিয়েও তিনি সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ইউরোপীয় ফুটবলের সঙ্গে ইনফান্তিনোর সম্পর্কের অবনতিও এখন স্পষ্ট। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে উয়েফা প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়েছে। ২০২৫ সালের ফিফা কংগ্রেসে উয়েফার প্রতিনিধিদের ওয়াকআউট এবং সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ ঘিরে ভিসা জটিলতা, কিছু কর্মকর্তা ও সমর্থকের প্রবেশে বাধা, শাস্তি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ এবং বিশ্বকাপের চড়া টিকিটমূল্য ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এমনকি ফিফার বিভিন্ন টুর্নামেন্টে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অংশীদার করার পরিকল্পনা সামনে এলে তীব্র বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত সংস্থাটি সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়। এরপরই উয়েফা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় যে, ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ওপর তাদের আস্থা নেই। ২০১৯ ও ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনর্নির্বাচিত হওয়া ইনফান্তিনোর সামনে এখন ২০২৭ সালের নির্বাচন। ফিফার গঠনতন্ত্রে তিন মেয়াদের সীমা থাকলেও বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী তিনি আবারও প্রার্থী হতে পারবেন। বিশ্বফুটবলের এই ক্ষমতাধর প্রশাসকের দীর্ঘ এই যাত্রা শেষ পর্যন্ত কীভাবে মূল্যায়িত হবে, তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। SHARES খেলাধুলা বিষয়: উয়েফাজিয়ান্নি ইনফান্তিনোফিফাফুটবলবিশ্বকাপ