ডায়াবেটিস প্রতিরোধে ধর্মীয় ও সামাজিক অংশীদারিত্বের আহ্বান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর

প্রকাশিত: 8:00 PM, August 7, 2026

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কেবলমাত্র হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। বৃহস্পতিবার ৬ আগস্ট সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক সম্মেলনে তিনি বিজ্ঞান, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং সামাজিক অংশীদারিত্বকে কাজে লাগিয়ে ডায়াবেটিস প্রতিরোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানুষের জীবন আচরণ ও সামাজিক কাঠামো গঠনে ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা অপরিসীম। তিনি আরও বলেন, ইমাম, পাদ্রি এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিনিধিরা যদি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, আচরণগত পরিবর্তন এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়ে পরামর্শ দেন, তবেই একটি সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

গবেষণার তথ্য তুলে ধরে ড. মুহিত জানান, ধর্মীয় মূল্যবোধকে কাজে লাগিয়ে পরিচালিত ডায়াবেটিস প্রতিরোধ কার্যক্রম উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে 'টাইপ-টু' ডায়াবেটিসের হার প্রায় ৪২ থেকে ৪৩ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে সক্ষম হয়েছে। এটি বিজ্ঞান ও ধর্মীয় বিশ্বাসের এক অনন্য সমন্বয়। এছাড়া, তিনি উল্লেখ করেন যে, মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ধর্মের নেতাদের অংশগ্রহণে এই সম্মেলনে 'ঢাকা ডিক্লেয়ারেশন' বা ঢাকা ঘোষণা বাস্তবায়ন বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ঢাকা রিজিনাল হাবের হেড আলী এম খান, গ্লোবাল মেটাবলিক হেলথ অ্যালায়েন্সের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. অমিত গুপ্ত, ডায়াবেটিস ইন এশিয়া স্টাডি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর আব্দুল বাসিত, আইডিএফ সাউথ-ইস্ট এশিয়ার চেয়ার ড. বংশী সাবু, জাইকার চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকো, ওআইসির অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মো. আফতাব আহমেদ খোখোর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. রাজেশ নারওয়াল, ওয়ার্ল্ড ডায়াবেটিস ফাউন্ডেশনের বোর্ড মেম্বার সোবিয়া আকরাম এবং ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিস ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর পিটার শোয়ার্জ উপস্থিত ছিলেন।

ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক হাফেজ মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ মহিববুল্লাহিল বাকী নদভী, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বৌদ্ধ কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি প্রফেসর ড. সুকোমল বড়ুয়া, সেন্ট জন মেরি ভিয়ানি হাসপাতালের ডিরেক্টর ড. ফাদার লিন্টু ফ্রান্সিস কস্টা এবং শ্রী শ্রী গীতা সংঘ বাংলাদেশের সভাপতি শ্রী নিত্যানন্দ চক্রবর্তী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।