চুয়াডাঙ্গায় ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ প্রকাশিত: 3:12 PM, July 24, 2026 চুয়াডাঙ্গার ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে ট্রাস্টি বোর্ডের কর্তৃত্ব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বিরোধের জেরে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে নোটিশ টানিয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন ট্রাস্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মো. আলীম উদ্দিন লস্কর ও আব্দুর রাজ্জাকসহ একটি পক্ষ নিজেদের বৈধ ট্রাস্টি বোর্ড হিসেবে দাবি করছে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়ম, নীতিমালা লঙ্ঘন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে। এই পক্ষটি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি চিঠির ভিত্তিতে গত কয়েক দিন ধরে ক্যাম্পাসে অবস্থান করছে। মঙ্গলবার তারা রেজিস্ট্রারের কক্ষ ও কম্পিউটার সেকশনসহ কয়েকটি কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়, যা পরে খুলে দেওয়া হয়। বুধবারও তারা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার দাবি করে। অভিযোগকারী পক্ষ জানায়, ২০১২ সালের ১৪ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়টি অনুমোদনের সময় ‘ফার্স্ট ক্যাপিটাল এডুকেশন, হেলথ অ্যান্ড এগ্রিকালচার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট’-এর মাধ্যমে এর যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য মরহুম সোলায়মান হক জোয়ার্দার, সেক্রেটারি ছিলেন আব্দুল মোত্তালেব এবং ট্রেজারার ছিলেন মো. আলীম উদ্দিন লস্কর। তাদের দাবি, ২০১৪ সালে নতুন নামে গঠিত ট্রাস্টি বোর্ডের আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। জয়েন্ট স্টকের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ জুন বোর্ড পুনর্গঠন করে মো. আলীম উদ্দিন লস্করকে চেয়ারম্যান, আব্দুর রাজ্জাককে সেক্রেটারি এবং তানভীর হুদাকে ট্রেজারার করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে ইউজিসির নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি। এছাড়া বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই বিভিন্ন পদ সৃষ্টি ও নিয়োগ দেওয়ার পাশাপাশি ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার এফডিআর যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই ভাঙিয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়ের গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। এসব বিষয়ে তারা নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার নাফিউল ইসলাম জোয়ার্দার শান্তের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। সচেতন মহল এই সংকট নিরসনে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। SHARES অন্যান্য বিষয়: চুয়াডাঙ্গাট্রাস্টি বোর্ডফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটিবিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষা কার্যক্রম