আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সেরা ১২ মুসলিমবান্ধব দেশ প্রকাশিত: 2:31 PM, July 31, 2026 বিদেশে উচ্চশিক্ষা, ক্যারিয়ার গড়া কিংবা ভ্রমণের ক্ষেত্রে মুসলিম শিক্ষার্থীরা সাধারণত ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সহনশীলতাকে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। বিশ্বের সব দেশ ধর্মীয় বৈচিত্র্যের দিক থেকে এক না হলেও, বেশ কিছু দেশ মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত সুরক্ষিত ও ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখছে। ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে এমন ১২টি দেশের তালিকা করা হয়েছে যারা আন্তর্জাতিক মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য আদর্শ গন্তব্য হতে পারে। যুক্তরাজ্য ইউরোপের অন্যতম বহুসাংস্কৃতিক দেশ হিসেবে পরিচিত। কোয়াকোয়ারেলি সিমন্ডসের বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিং অনুযায়ী, ইমপিরিয়াল কলেজ লন্ডন, অক্সফোর্ড ও ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় শীর্ষ তালিকায় রয়েছে। দেশটিতে প্রায় ৪০ লাখ মুসলিম বসবাস করেন। এছাড়া বর্ণ বা ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য ও অনলাইন নিপীড়ন রোধে যুক্তরাজ্যে ‘পাবলিক অর্ডার অ্যাক্ট ১৯৮৬’ এবং ‘অনলাইন সেফটি অ্যাক্ট ২০২৩’-এর মতো কঠোর আইন রয়েছে। মালয়েশিয়ার জীবনযাত্রায় ইসলামী ঐতিহ্যের গভীর প্রভাব বিদ্যমান, কারণ দেশটির সরকারি ধর্ম ইসলাম এবং জনসংখ্যার প্রায় ৫৮ শতাংশ মালয়ি মুসলিম। এখানে হালাল খাবার, পৃথক প্রার্থনাকক্ষ এবং অজুখানার সুবিধা সহজলভ্য। ইউনিভার্সিশি মালেয়াসহ দেশটির শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পছন্দের শীর্ষে থাকে। এদিকে অ-মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হওয়া সত্ত্বেও তাইওয়ান দ্রুত মুসলিমবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলেছে। গ্লোবাল মুসলিম ট্রাভেল ইনডেক্সে (জিএমটিআই) অ-মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে তাইওয়ান তৃতীয় স্থানে রয়েছে। দেশটির পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ও পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে প্রার্থনাকক্ষ নির্মাণ করা হয়েছে এবং ‘তাইপে ১০১’ ভবনে কেবলামুখী দিকনির্দেশকও যুক্ত করা হয়েছে। তেল ও গ্যাসনির্ভর অর্থনীতির দেশ ব্রুনাইতে ৮২ শতাংশের বেশি মানুষ মুসলিম। শরিয়াহ আইন কার্যকর থাকা এই দেশটি উন্নত জীবনযাত্রা ও ধর্মীয় অবকাঠামোর জন্য মুসলিম শিক্ষার্থীদের কাছে নিরাপদ। জর্ডান তার ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিশ্রণের জন্য পরিচিত, যেখানে ৯৭ শতাংশ মানুষ মুসলিম। রাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীল এই দেশটি বর্তমানে বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকর্ষণে সফল, যা সেখানকার শিক্ষা ও অর্থনৈতিক পরিবেশকে সমৃদ্ধ করেছে। ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মুসলিম জনসংখ্যার দেশ হওয়া সত্ত্বেও তার বহুসাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সহনশীলতার জন্য সুপরিচিত। ছয়টি দাপ্তরিক ধর্মকে স্বীকৃতি দেওয়া এই দেশে ১ হাজার ৩০০টির বেশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে এবং এটি জিএমটিআই তালিকায় শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত বিশ্বের ২০০ দেশের মানুষের আবাসস্থল। দুবাইয়ের প্রযুক্তি অঞ্চল ‘দুবাই ইন্টারনেট সিটি’সহ দেশটিতে পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার গড়ার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে এবং এটি হালাল ট্যুরিজমে বিশ্ব নেতৃত্ব দিচ্ছে। সিঙ্গাপুর অ-মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর মধ্যে মুসলিমবান্ধব তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। এখানে ইসলামিক ধর্মীয় কাউন্সিল অব সিঙ্গাপুরের (এমইউআইএস) অনুমোদিত হালাল খাবার সহজে পাওয়া যায় এবং কঠোর বৈষম্যবিরোধী আইনের মাধ্যমে সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। তুরস্কের ৯৯.৮ শতাংশ মুসলিম জনসংখ্যার এই দেশে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কম খরচে ইংরেজি মাধ্যমে পড়ার সুযোগ রয়েছে, যেখানে ‘দিয়ানেত’ নামক সরকারি সংস্থা ধর্মীয় অবকাঠামো তদারকি করে। কাতারের রাষ্ট্রীয় ধর্ম ইসলাম এবং দেশটির ‘এডুকেশন সিটি’র অধীনে ক্যালিফোর্নিয়া মেলন বা জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির মতো বিশ্বখ্যাত মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস রয়েছে। এছাড়া ব্যক্তিগত উপার্জনে করমুক্ত সুবিধা শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ আকর্ষণীয়। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির দিকেও নজর রাখা জরুরি। আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস কাউন্সিলের (সিএআইআর) রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক অভিযোগ বাড়ছে। ২০২৫ সালে সংস্থাটি রেকর্ড ৮ হাজার ৬৮৩টি অভিযোগ নথিভুক্ত করেছে, যা বিগত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। একইভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যে ইসলামোফোবিয়ার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বর্ণবাদ বা বৈষম্যের শিকার হওয়া শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। তাই নিরাপদ পরিবেশ ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করে এমন দেশ নির্বাচন করা আন্তর্জাতিক মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য এখন একটি কৌশলগত অগ্রাধিকার। SHARES শিক্ষা বিষয়: আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীউচ্চশিক্ষাউচ্চশিক্ষার গন্তব্যমুসলিমবান্ধব দেশশিক্ষা