রাশিয়ার সঙ্গে সিরিয়ার নতুন সামরিক চুক্তি, ঘাঁটি রূপান্তর প্রক্রিয়া শুরু প্রকাশিত: ১২:৩২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১০, ২০২৬ ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটির ভবিষ্যৎ নিয়ে রাশিয়ার সাথে নতুন একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে সিরিয়া। এই চুক্তির ফলে ঘাঁটি দুটি রাশিয়ার একক সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহারের সময়সীমা শেষ হতে চলেছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে এই রূপান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে। নতুন এই চুক্তির অধীনে লাতাকিয়ার কাছে অবস্থিত হিমেইমিম বিমান ঘাঁটি এবং তারতুস বন্দরের বাণিজ্যিক অংশ সিরিয়ার বেসামরিক প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনা হবে। সিরিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে লাতাকিয়া বিমানবন্দরের কারিগরি ও পরিচালন সংক্রান্ত কাজ শুরু করেছে। তবে ঘাঁটিগুলোর সামরিক অবকাঠামো পুরোপুরি পরিত্যক্ত হচ্ছে না; বরং সেগুলোকে সিরিয়া ও রাশিয়ার ‘যৌথ প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা উন্নয়ন কেন্দ্র’ হিসেবে পরিচালনা করা হবে। সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতির একটি নতুন পুনর্গঠন হিসেবে বর্ণনা করেছে। ২০১১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাশিয়া বাশার আল-আসাদের প্রধান সামরিক ও রাজনৈতিক মিত্র ছিল। তবে আসাদ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারা মস্কোর সাথে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখার নীতি গ্রহণ করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর আল-শারা দুইবার মস্কো সফর করে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে বৈঠক করেছেন, যেখানে এই ঘাঁটিগুলোর বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। একই সাথে সিরিয়ার নতুন প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও আরব দেশগুলোর সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্বহালের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে সিরিয়ার ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁন দামেস্ক সফর করে ১৪ বছর পর পুনরায় রাষ্ট্রদূত নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দেড় বছরের আলোচনার পর অর্জিত এই সমঝোতাকে সিরিয়া ও রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: চুক্তিভূরাজনীতিরাশিয়াসামরিক ঘাঁটিসিরিয়া