কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮১ প্রকাশিত: ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১২, ২০২৬ কলম্বিয়ার পশ্চিম অঞ্চলে আঘাত হানা ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৮১ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃতের এই সংখ্যা ২৪০ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে শুরু হওয়া এই দুর্যোগে দেশটির প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। মঙ্গলবার পেরেইরা থেকে দেওয়া সর্বশেষ তথ্যে তিনি জানান, ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন প্রায় ২ হাজার ৬০০ মানুষ এবং এখনো নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ২০০ জন। এছাড়া ১ হাজার ১০০টির বেশি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস এবং ৮ হাজারের বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিকম্পের পর থেকে উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন। কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্যমতে, মূল ভূমিকম্পের পর ৭০টিরও বেশি আফটার শক অনুভূত হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে সান হোসে দেল পালমার ও সান্তান্দার এলাকায় ৩.৬ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কালি শহরে এ পর্যন্ত ৯৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শহরের মেয়র আলেহান্দ্রো এদের জানান, ২৩৯ জন এখনো বিভিন্ন স্থানে আটকা রয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৯৪৯ জন। কালিমা এলাকায় জিমনাসিও কালিমা স্কুলের একটি অংশ ধসে চার শিশু নিহত হয়েছে। এছাড়া শহরের একটি হাসপাতালের ওপরের তলা ধসে পড়ায় সেখানে চিকিৎসাধীন কয়েকজন রোগী আটকা পড়েছেন। লুটপাট ঠেকাতে কালিমা এলাকায় রাত ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে। পেরেইরা শহরে দমকল বিভাগ এখন পর্যন্ত ৭৯ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সেখানে উদ্ধারকাজ নির্বিঘ্ন করতে ‘কার-ফ্রি ডে’ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া মানিজালেস শহরে পাঁচজন নিহত এবং ৬০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ভূমিকম্পের পর আতঙ্কে পেরেইরা ও কালিসহ বিভিন্ন শহরের অনেক মানুষ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছেন। কেউ কেউ বাড়ি ধসে পড়ার কারণে, আবার কেউ পরবর্তী কম্পনের আশঙ্কায় ঘরে ফিরতে সাহস করেননি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কলম্বিয়ার এই সংকটে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র সংহতি প্রকাশের পাশাপাশি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ১ কোটি ৫৫ লাখ ডলার সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া ইকুয়েডর, ব্রাজিল, এল সালভাদর ও ভেনেজুয়েলাও সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা এখনো ধসে পড়া ভবন ও ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: আন্তর্জাতিকউদ্ধার অভিযানকলম্বিয়ানিহতভূমিকম্প