ওমানকে বোমা হামলার হুমকি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রকাশিত: ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০২৬ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র রাষ্ট্র ওমানকে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজের বরাতে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে তার প্রশাসনের আলোচনায় ওমান যদি কোনো ধরনের ‘বাধা’ সৃষ্টি করে, তবে তাদের ওপর বোমা হামলা চালানো হবে। ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদক জানিয়েছেন, ফোন সাক্ষাৎকারের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওমানের প্রতি অত্যন্ত কঠোর ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করেছেন। ইরানের সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির মেয়াদ না বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিবিসির এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প নিশ্চিত করেন যে, ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মেয়াদ তিনি বাড়াচ্ছেন না। এদিকে, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ওমান পৃথকভাবে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি গত ছয় মাস ধরে কার্যত বন্ধ রয়েছে। সোমবার ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার কাছাকাছি পৌঁছেছে ইরান। এর কয়েক ঘণ্টা পরই ওমানকে এই হুমকি দিলেন ট্রাম্প। যদিও ট্রাম্পের কাছে ‘বাধা হয়ে দাঁড়ানো’ বলতে ঠিক কী বোঝায়, তা স্পষ্ট নয়। ওমান এই সংঘাতে নিজেকে নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করলেও তেহরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এই জলপথটি পুনরায় খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনও নিজস্ব উদ্যোগে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ফক্স নিউজের প্রতিবেদক ট্রে ইংস্টকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ট্রাম্প বলেছেন ওমান যদি বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তবে তাদের ওপর ভয়াবহ বোমা হামলা চালানো হবে। একই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন যে, ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড করপসের (আইআরজিসি) সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি গোপন যোগাযোগের চ্যানেল রয়েছে। তবে আইআরজিসির এক মুখপাত্র এই দাবি স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছেন। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজকে দেওয়া বক্তব্যে ওই মুখপাত্র বলেছেন, আইআরজিসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমেরিকানদের কোনো আলোচনা চলছে না। তিনি ট্রাম্পের এই দাবিকে যুদ্ধের পরাজয় ও হতাশার কারণে সৃষ্ট ‘ভ্রান্ত কল্পনা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, পণ্য পরিবহনের পথের মানচিত্র নিয়ে উভয় পক্ষ একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। তবে যৌথ বিবৃতি প্রকাশের আগে চূড়ান্ত বিষয়গুলো নির্ধারণ করা হবে। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ওপর নির্ভর করছে, কারণ তেহরানের দাবি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের শর্ত লঙ্ঘন করেছে। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: ইরানওমানডনাল্ড ট্রাম্পবোমা-হামলাহরমুজ প্রণালি