ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করল আমিরাত

প্রকাশিত: ৮:০০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৯, ২০২৬

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) তেহরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য, বাণিজ্যিক লেনদেন ও আর্থিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। বুধবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এমন সাম্প্রতিক উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করে যে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। আবুধাবির ভাষ্যমতে, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল, যার একটি আমিরাতের জলসীমায় এবং অন্যটি জলসীমার বাইরে গিয়ে পড়ে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি দাবি করেন, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার মধ্যে এটি একটি ‘ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন’ হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, দুবাই দীর্ঘদিন ধরে ইরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে আসছে। সাবেক মার্কিন জেনারেল ও সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক কিমিটের মতে, ইউএইর এই সিদ্ধান্ত ইরানের অর্থনীতির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি নিষেধাজ্ঞার চেয়েও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি জানান, ইরান তার বার্ষিক আমদানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ইউএইর মাধ্যমে সম্পন্ন করে। ২০২৩ সালে দুই দেশের মধ্যে সরকারি পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে ৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারই ছিল ইউএই থেকে ইরানে রপ্তানি। প্রধান আমদানিকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, তামাক ও বাদাম।

বাণিজ্যিক সম্পর্কের বাইরেও দুবাই ইরানের জন্য আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে অর্থ স্থানান্তরের একটি প্রধান পথ হিসেবে পরিচিত। মার্ক কিমিট বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরান ইউএইর এই পদক্ষেপকে ‘প্রায় যুদ্ধ ঘোষণার মতো’ হিসেবেও বিবেচনা করতে পারে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে, যার ফলে ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি আমিরাতের এই নতুন নিষেধাজ্ঞায় ইরানের অর্থনীতিতে তীব্র চাপের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।