মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে খনি ধসে শতাধিক শ্রমিকের মৃত্যু

প্রকাশিত: ১১:০১ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০২৬

মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের পশ্চিমাঞ্চলে একটি ক্ষুদ্র সোনার খনি ধসে শতাধিক মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তা ও ত্রাণকর্মীদের বরাত দিয়ে বুধবার আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থাগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। মঙ্গলবার বিকেলে দেশটির ক্যামেরুন সীমান্তের কাছে বাবুয়া শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত জামবয়ে গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বালুর মতো মাটির বিশাল এক স্তর খনিতে কাজরত শ্রমিকদের ওপর ধসে পড়ে তাদের চাপা দিচ্ছে। স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, খনি শ্রমিকরা কাজ করার সময় একাধিক ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ ধসে পড়ার কারণেই এই বিপর্যয় ঘটেছে। খনিশ্রমিক সেড্রিক এমবাঙ্গো এ ঘটনাকে একটি ভয়াবহ বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করে জানান, মাটি পুরোপুরি ধসে গিয়ে শ্রমিকদের চাপা দিয়েছে।

রেড ক্রসের স্বেচ্ছাসেবক গেরভাইস গানাগোরোহ অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন যে, ধসে পড়া স্থান থেকে শতাধিক মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় একটি খনি সমিতির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও একই সংখ্যক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। উদ্ধারকারীরা দ্রুত ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি জীবিতদের সন্ধানে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে উদ্ধার অভিযানে ট্রাক্টরসহ ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হলেও, এতে মাটির নিচে চাপা পড়া জীবিত ব্যক্তিদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

খনিতে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র ও ক্যামেরুনের নাগরিকরা ছিলেন। ক্যামেরুনের পূর্বাঞ্চলীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তাদের অন্তত তিন নাগরিকের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ক্যামেরুনের পূর্বাঞ্চলের গভর্নর গ্রেগোয়ার মভোঙ্গো মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন। জামবয়ের যুব কাউন্সিলের সদস্য বার্ত্রাঁ বে ইয়াঙ্গুয়ের মতে, কাউকে জীবিত উদ্ধার করা এখন অলৌকিক ঘটনা হবে। পরিবারের প্রয়োজনে জীবিকার সন্ধানে খনিতে আসা তরুণ-তরুণীদের এমন মৃত্যুতে তিনি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের কারণে পরিত্যক্ত বা অনিরাপদ খনিতে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের অনানুষ্ঠানিক খনিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটে। চলতি বছরেই মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের বিভিন্ন খনি দুর্ঘটনায় অন্তত ৪০ জনের মৃত্যুর রেকর্ড রয়েছে। নতুন এই দুর্ঘটনায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানি দেশটিতে অনানুষ্ঠানিক খনি খাতের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।