যুক্তরাজ্যের কারাগারে যৌন অপরাধীদের জন্য বিশেষ চিকিৎসা প্রকল্প

প্রকাশিত: ৩:০৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০২৬

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে যৌন অপরাধে দণ্ডিত হাজারো পুরুষ কারাবন্দীকে যৌনাকাঙ্ক্ষা কমানোর ওষুধ দেওয়ার একটি নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বেলিন্ডা ওয়াইন্ডারের হিসাব অনুযায়ী, এই কর্মসূচির আওতায় ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের প্রায় ৩ হাজার ৭৫০ জন বা মোট যৌন অপরাধীর চারজনের মধ্যে একজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। ২০২৮ সালের ডিসেম্বর থেকেই এই বিশেষ চিকিৎসা কর্মসূচি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

কারাগারে বন্দীদের বাড়তি চাপ কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই সরকার এই স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসা প্রকল্প সম্প্রসারণের আগ্রহ দেখাচ্ছে। বর্তমানে ‘মেডিকেশন টু ম্যানেজ প্রবলেমেটিক সেক্সুয়াল অ্যারৌসাল’ নামের একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প চলমান রয়েছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যে এটি ১০টি থেকে বাড়িয়ে ২০টি কারাগারে বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী ধাপে এই কার্যক্রম দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের বাইরে উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্ব ইংল্যান্ডের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা অঞ্চলেও ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

এই চিকিৎসার লক্ষ্য মূলত সেই সব বন্দী, যারা অনবরত বিকৃত যৌন চিন্তায় আক্রান্ত এবং নিজেদের অস্বাস্থ্যকর তাড়না নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ। কর্মসূচিতে মূলত দুটি ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে—সারট্রালিন, যা অনাকাঙ্ক্ষিত চিন্তা দূর করতে সহায়তা করে এবং অ্যান্টি-অ্যান্ড্রোজেন, যা টেস্টোস্টেরন হরমোনের উৎপাদন কমিয়ে যৌনাকাঙ্ক্ষা প্রায় নিঃশেষ করে দেয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই হরমোনের মাত্রা বয়ঃসন্ধির আগের পর্যায়ে নেমে আসে।

অধ্যাপক ওয়াইন্ডার জানান, পরীক্ষামূলক প্রকল্পের ফলাফল ইতিবাচক হলে বিচার মন্ত্রণালয় ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এটি দেশব্যাপী চালু করতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কেবল ওষুধের ওপর নির্ভর না করে বন্দীদের নিয়মিত উন্নত চিকিৎসা ও কাউন্সেলিং সেবা দেওয়া প্রয়োজন। এছাড়া এই সেবাব্যবস্থা সফল করতে পর্যাপ্ত বাজেট ও দক্ষ চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি।

এদিকে, শিশু যৌন নির্যাতনকারী ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধীদের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক ‘রাসায়নিক খোজাকরণ’ বা কেমিক্যাল কাস্ট্রেশনের যে প্রতিশ্রুতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ দিয়েছিলেন, তা কার্যকর করা হবে কি না, তা নিয়ে সরকারের মধ্যে নতুন করে পর্যালোচনা চলছে। বর্তমানে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের কারাগারে প্রায় ১৫ হাজার বন্দী যৌন অপরাধের দায়ে সাজা ভোগ করছেন। এছাড়া প্রতি মাসে অনলাইনে শিশু যৌন নিপীড়নের সন্দেহে ৮৫০ জনের বেশি ব্যক্তি গ্রেপ্তার হচ্ছেন।