গঙ্গা চুক্তি নবায়ন: ভারতের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ৯:০৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০২৬

গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি নতুন করে নির্ধারণের জন্য ভারতের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক এই চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ আগামী ডিসেম্বর মাসে শেষ হতে যাচ্ছে। এ অবস্থায় দেশের জনগণের পানির অধিকার রক্ষা করে একটি নতুন ও টেকসই চুক্তি সই করার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সমস্ত নদী ও পানি-সংক্রান্ত বিষয় দ্বিপক্ষীয় যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) কাঠামোর আওতায় আলোচনা করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গঙ্গা চুক্তি সংক্রান্ত যৌথ কমিটির কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকগুলো নিয়মিত অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চুক্তিটি পুনর্নির্ধারণের জন্য ইতিমধ্যে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং বিষয়টি ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, অভিন্ন নদীগুলো থেকে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকার অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তিনি জানান, চুক্তি প্রণয়নের বিষয়ে ভারতকে জানানো হয়েছে এবং বাংলাদেশ এখন তাদের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে।

এর আগে মরিশাসে অনুষ্ঠিত নবম ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্সে অংশ নেওয়ার সময়ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান গঙ্গা চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার করেছিলেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এগুলো আমাদের অভিন্ন নদী, যেখানে আমাদের অভিন্ন ঐতিহ্য ও স্বার্থ জড়িত। তাই এমন একটি টেকসই সমাধান খুঁজে বের করা জরুরি, যা জনগণের আস্থা অর্জন করবে। আগামী ২৫ থেকে ৫০ বছরের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি তৈরির জন্যও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তিন দশক আগের এই চুক্তিটি বর্তমান বাস্তবতায় ব্যাপকভাবে পর্যালোচনা ও সংস্কার করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ সেন্টার ফর ইন্দো-প্যাসিফিক অ্যাফেয়ার্সের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক শাহাব এনাম খান সম্প্রতি ইউএনবিকে বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের জন্য গঙ্গা চুক্তি নবায়ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটি সংশোধন করা দরকার। কারণ চুক্তিটি প্রায় তিন দশক আগে করা হয়েছিল, যার ফলে বর্তমানের অনেক বাস্তবতাই সেখানে অনুপস্থিত। একই সঙ্গে অর্থনীতিবিদ, নগর পরিকল্পনাবিদ, সমাজবিজ্ঞানী ও পরিবেশবিদদের যুক্ত করে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা সতর্ক করে বলেছেন, যথাযথভাবে পানি বণ্টন নিশ্চিত করা না গেলে বাংলাদেশকে বড় ধরনের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক ঝুঁকির মুখে পড়তে হতে পারে।