গুমের অভিযোগ ও নতুন আইন নিয়ে ভুক্তভোগী স্বজনদের ক্ষোভ

প্রকাশিত: ১০:০৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০২৬

রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে মানবাধিকার সংগঠন 'অধিকার'-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং বর্তমান সরকারের আমলেও নতুন করে গুমের ঘটনা ঘটার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আগামী ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রায় ২০টি ভুক্তভোগী পরিবার এবং গুম থেকে ফিরে আসা দুজন ব্যক্তি অংশ নেন।

সেমিনারে ভুক্তভোগীরা নতুন 'গুম প্রতিরোধ আইন'-এর খসড়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনেকে একে 'বস্তা পচা আইন' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের দাবি, গুমের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য দায়িত্ব স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে দিতে হবে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা নিখোঁজ স্বজনদের ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে একান্ত সাহায্য প্রার্থনা করেন।

বাগেরহাটের নিখোঁজ মিরাজ শেখের স্ত্রী মুক্তা খাতুন অভিযোগ করেন, গত ১০ এপ্রিল সন্ধ্যায় জয়মনির ঠোটা এলাকায় চায়ের দোকানের সামনে থেকে সাদাপোশাকে থাকা কোস্টগার্ড সদস্যরা তার স্বামীকে স্পিডবোটে তুলে নিয়ে যায়। ঘটনার সময় মিরাজের মোটরসাইকেলটি দোকানি আল-আমিনের কাছে রাখা হয়েছিল, যা পরে ২১ এপ্রিল কোস্টগার্ড সদস্য রবিন পরিচয়ে একজন এসে নিয়ে যান। কিন্তু পরবর্তীতে কোস্টগার্ড মিরাজকে আটকের কথা অস্বীকার করে।

আনিশা ইসলাম ইনশা নামের আরেক ভুক্তভোগী জানান, ২০১৯ সালের ১৯ জুন মিরপুর-১ থেকে তার বাবা ইসমাইল হোসেন বাতেন গুম হন। তিনি অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়েও গুমের ঘটনা ঘটছে। এছাড়া আমেনা আক্তার জানান, ২০১২ সালের ২৪ আগস্ট তৎকালীন সরকারের আমলে র‍্যাব তার স্বামী বরিশালের ওয়ার্ড ছাত্রদল সভাপতি ফিরোজ খানকে গুম করে।

অধিকারের ট্রেনিং অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি পরিচালক তাসনিম ফারহানা লিখিত বক্তব্যে বলেন, ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদে উত্থাপিত গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের খসড়ায় শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে না দেওয়ার কথা বলা হলেও তা বাস্তবায়নযোগ্য নয়। তিনি সতর্ক করেন যে, এই আইনে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীর পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে, যা বিচারহীনতার পথ প্রশস্ত করবে।

সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম নতুন আইনকে 'বস্তা পচা' বলে অভিহিত করে বলেন, এটি গুম ও খুনের ছাড়পত্র দিচ্ছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে উল্টো জেলে পাঠানোর ভয় দেখাচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সংসদ সদস্য মাহবুব উদ্দীন খোকন বলেন, আইনটি সর্বজনীন হতে হবে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসিনুর রহমান, সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং ফিরে আসা মারুফ জামান এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনের হিউম্যান রাইটস অফিসার জাহিদ হোসেন।