ভেনেজুয়েলার তেলভাণ্ডারে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির ঘোষণা ট্রাম্পের প্রকাশিত: ৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০২৬ ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলভাণ্ডারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার লক্ষ্যে একটি নজিরবিহীন চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার ঘোষিত এই চুক্তির আওতায়, বেসরকারি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রমাণিত ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি তেল মজুদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে যাচ্ছে। ট্রাম্পের দাবি, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে মার্কিন করদাতাদের কোনো অর্থ ব্যয় হবে না। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ভেনেজুয়েলার বিপর্যস্ত তেলশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করা, উৎপাদন বাড়ানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কম খরচে অপরিশোধিত তেলের নতুন সরবরাহ নিশ্চিত করা। বিশ্বের বৃহত্তম প্রমাণিত তেল মজুদ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ ঘাটতি এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ভেনেজুয়েলার উৎপাদন বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলে নেমে এসেছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এই নতুন চুক্তির ঘোষণা এল। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, মার্কিন কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার নির্দিষ্ট কিছু তেলক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি প্রবেশাধিকার পাবে এবং সেখান থেকে উৎপাদিত তেল যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হবে। ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তারা আগামী সপ্তাহে কয়েকটি কোম্পানিকে তেল অনুসন্ধান ও উৎপাদনের অধিকার দেওয়ার জন্য চুক্তিতে স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যেখানে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এই তেলক্ষেত্রগুলো ভেনেজুয়েলার ওরিনোকো বেল্ট ও লেক মারাকাইবো অঞ্চলে অবস্থিত। তবে এই মডেলটি সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে, কারণ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেলশিল্পের নিয়ন্ত্রণ এখনো রাষ্ট্রীয় হাতে। ট্রাম্প এই চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাঠামো বা এতে যুক্ত কোম্পানির নাম প্রকাশ করেননি। এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই চুক্তিকে দুই দেশের জন্যই লাভজনক বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম কমাতে সাহায্য করবে এবং ভেনেজুয়েলায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ ও হাজার হাজার উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। শুক্রবার রাতে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী নেতা ডেলসি রদ্রিগেজও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, ১৭টি কৌশলগত তেলক্ষেত্র উন্নয়নের মাধ্যমে দেশটি ২০৯ বিলিয়ন ডলারের কর রাজস্ব পেতে পারে, যা দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে ভারসাম্য আনবে। তবে বিশ্লেষকরা এই চুক্তির আইনি ও আর্থিক কাঠামো নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। গোল্ডউইন গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিসের প্রেসিডেন্ট ডেভিড গোল্ডউইন জানান, ভেনেজুয়েলার সংবিধান ও নতুন হাইড্রোকার্বন আইনের অধীনে মার্কিন সরকারের সরাসরি তেলক্ষেত্র ইজারা নেওয়ার আইনি ভিত্তি কতটা শক্তিশালী, তা স্পষ্ট নয়। এছাড়া রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, দুর্বল অবকাঠামো এবং সীমিত রপ্তানি সক্ষমতা এই বিনিয়োগের পথে বড় বাধা হতে পারে। এদিকে, ওয়াশিংটন তার কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ পুনর্পূরণ এবং ভোক্তাদের জন্য পেট্রোলের বাড়তি দামের উদ্বেগ কমাতে ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: অর্থনীতিডোনাল্ড ট্রাম্পতেল মজুদভেনেজুয়েলাযুক্তরাষ্ট্র