নেপালে প্রধান শিক্ষকের দ্রুত সিদ্ধান্তে রক্ষা পেলেন ৯০০ শিক্ষার্থী

প্রকাশিত: ৮:০১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০২৬

নেপালের নুয়াকোট জেলার ত্রিভুবন ত্রিশূলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯০০ শিক্ষার্থী ভয়াবহ ভূমিধস ও বন্যার হাত থেকে অলৌকিকভাবে রক্ষা পেয়েছে। স্কুলটিতে বন্যার পানি আঘাত হানার মাত্র ১০ মিনিট আগে প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদি শিক্ষার্থীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার সাহসী সিদ্ধান্ত নেন।

প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র বিবিসিকে জানান, স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটের দিকে তিনি দুর্যোগের সতর্কবার্তা সম্বলিত চারটি ফোনকল পান। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষার্থীদের উঁচু জায়গায় চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন এবং স্কুলগামী বাসগুলোকে দ্রুত ফিরে যাওয়ার বার্তা পাঠিয়ে দেন। তিনি বলেন, যদি আর ১০ মিনিট দেরি হতো, তবে হয়তো কেউই আজ বেঁচে থাকত না। এক অভিভাবকের দ্রুত সতর্কবার্তা তাকে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে সাহায্য করেছিল, যার ফলে তিনি এক সেকেন্ড সময় নষ্ট না করে এই সিদ্ধান্ত নেন। কোনো জোরালো কারণ ছাড়া অভিভাবকেরা এভাবে স্কুলে ছুটে আসেন না উল্লেখ করে তিনি জানান, তিনি আর দেরি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, ঢল না এলেও হয়তো একদিনের ক্লাস নষ্ট হতো, কিন্তু এত মানুষের জীবন বাঁচাতে পেরে তিনি গর্বিত।

বিদ্যালয়টির ভবনটি বর্তমানে কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে। এছাড়া নদী থেকে ১০০ মিটার দূরে অবস্থিত বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসটিও ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে। ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ইউনিশা আমাত্য জানান, ক্লাসে পড়ার সময় শিক্ষকরা হঠাৎ এসে ঢলের কথা জানান। ইউনিশা ও তার বন্ধুরা স্কুলের পেছনের পথ ধরে পাহাড়ের দিকে দৌড়ে প্রাণ বাঁচান। তিনি আরও জানান, ঢলের কথা শুনে এক শিক্ষার্থী অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল। অনেক শিক্ষার্থী তখনো বিপদের মাত্রা বুঝতে পারেনি এবং গণিতের ক্লাসে থাকা সহপাঠীদের জন্য অপেক্ষা করছিল।

নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পর ঢলের কারণে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা দুই রাত একটি গ্রামে আটকে ছিলেন। পরে উদ্ধারকারী দল তাদের কাছে পৌঁছায়। শেষ পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক ও ইউনিশাকে হেলিকপ্টারে করে বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনার সময় অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিয়ে চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে ছিলেন। ইউনিশার মা সাবিনা কুমারী শ্রেষ্ঠা জানান, তিনি বারবার মেয়ে ও স্বামীর ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছিলেন। রাজেন্দ্র দাওয়াদি বলেন, আরও কার্যকর সতর্কীকরণ ব্যবস্থা থাকলে এলাকার বাসিন্দারা আরও আগে সাড়া দিতে পারতেন। তবে তিনি মনে করেন, তার দ্রুত সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপে বড় বিপর্যয় এড়ানো গেছে।