নেপালে বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ৯০৩, নিখোঁজ ৪ হাজার ছাড়াল

প্রকাশিত: ৪:৪৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০২৬

নেপালের ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) সোমবার সকালে প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। সরকারি তথ্যমতে, এ ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ২৪৭ জন।

গত বুধবার নেপাল-তিব্বত সীমান্তের হিমালয় অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর ও মাটি নদীতে ধসে পড়ায় এই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। পানির তীব্র স্রোত মানুষকে কয়েকশ কিলোমিটার দূরে ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়ায় অনেক মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এখন পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া ৯০৩টি মরদেহের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৭২টি পাওয়া গেছে চিতওয়ান জেলায়। এছাড়া পূর্ব নবলপুরে ২০৭টি, পশ্চিম নবলপুরে ১৫১টি, নুয়াকোটে ৯৫টি, গোর্খায় ৬২টি, ধাদিংয়ে ৫৫টি, তানাহুনে ৩৭টি এবং রাসুয়ায় ২৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে নুওয়াকোটে ১ হাজার ৫৫৮ জন এবং রাসুয়ায় ৮৬৫ জন রয়েছেন। এছাড়া একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট ৯৩৩ জন, ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক এবং বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে থাকা ১২৭ জন নেপালি এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের তালিকায় নিরাপত্তা বাহিনীর ৮৩ জন সদস্যও রয়েছেন, যার মধ্যে নেপালি সেনাবাহিনীর ৪৫ জন, নেপাল পুলিশের ২৫ জন এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ১৩ জন সদস্য অন্তর্ভুক্ত।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যায় ২৬৭ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৫৬ জন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করতে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে ২০ হাজার ৮১৯ জন নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে এবং দুর্গম এলাকায় হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার কাজ চালানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত মোট ১০ হাজার ৪৫১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে উদ্ধার হওয়া মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন জেলার ২১টি হাসপাতালে অজ্ঞাত মরদেহগুলো রাখা হয়েছে। নিখোঁজ ও শনাক্ত না হওয়া মরদেহের হালনাগাদ তথ্য এনডিআরআরএমএ-এর ফেসবুক পেজ ও নেপাল পুলিশের দুর্যোগবিষয়ক পোর্টালে প্রকাশ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ছয়টি বিশেষায়িত সার্জারি চিকিৎসক দল কাজ করছে।