বহুদলীয় ও সংসদীয় গণতন্ত্র বিএনপির হাত ধরেই এসেছে: প্রধানমন্ত্রী প্রকাশিত: ৪:০১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার রাজধানীর সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপ সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি বলে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের জন্য আমরা দীর্ঘ সময় ধরে লড়াই করেছি। এই পথচলায় আমাদের দলের অসংখ্য নেতা-কর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন এবং প্রায় ৪০ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। অবশেষে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক ধারাকে সুগম করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্রই ফিরিয়ে আনেনি, সংসদীয় গণতন্ত্রও এই দলের হাত ধরেই এসেছে। সামনে এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও আমরা গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং একটি কার্যকর ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের টেকসই অগ্রগতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব বলে বিশ্বাস করি। এসময় আইপিইউ সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপ প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অংশগ্রহণের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বলেন যে, এটি সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি তার দৃঢ় অঙ্গীকারের শক্তিশালী বার্তা বহন করে। তিনি আরও জানান যে, তিনি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার পড়েছেন এবং সেখানে শিক্ষা ও কমিউনিটিভিত্তিক কর্মসূচির উদ্যোগগুলো তার নজর কেড়েছে। এছাড়া, বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে জনগণের মধ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। আন্দা ফিলিপ জানান, আইপিইউ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতা আরও জোরদার করতে আগ্রহী। তানজানিয়ায় অনুষ্ঠেয় আইপিইউর ১৫৩তম সম্মেলনে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকারের অংশগ্রহণ দুই পক্ষের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি তিনি গণতন্ত্র কার্যকর ও টেকসই করতে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি তার সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি নারীদের অনার্স পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং নারী শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি চালুর পরিকল্পনার কথা জানান। এছাড়া ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো। সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। SHARES জাতীয় বিষয়: আইপিইউগণতন্ত্রতারেক-রহমানপ্রধানমন্ত্রীবিএনপি