মব কালচার দমনে আলাদা আইনের প্রয়োজন নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৬:০১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬

দলবদ্ধভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ‘অপসংস্কৃতি’ শক্তভাবে মোকাবিলা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের বিজিবি সদর দপ্তরে ‘সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা মোকাবিলায় প্রচলিত আইনই যথেষ্ট, আলাদা কোনো আইনের প্রয়োজন নেই।

মব বা দলবদ্ধভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা খুব সজাগ ও সচেতন আছি। দেশে মবের যে অপসংস্কৃতি সৃষ্টি হয়েছিল, সেটাকে আমরা শক্তভাবে মোকাবিলা করব।

মাদক মামলার খালাস পাওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মামলার আধিক্য, তদন্ত সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা, পর্যাপ্ত জনবল না থাকা এবং পুরোনো আইনের সীমাবদ্ধতাকে দায়ী করেন। তিনি জানান, ঢাকায় প্রায় ৮০ হাজার, কক্সবাজারে ২০ হাজারের বেশি এবং চট্টগ্রামে ৩০ হাজারের বেশি মাদক মামলা ঝুলে আছে। এসব মামলার বিপরীতে তদন্তের জন্য জনবল ও সক্ষমতার অভাব ছিল এবং অধিকাংশ জেলায় ল্যাবরেটরি সুবিধাও ছিল না।

নতুন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মাধ্যমে অধিদপ্তরকে শক্তিশালী করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাইবার স্পেসে মাদকের কেনাবেচাসহ অপরাধ মোকাবিলার সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেক জেলায় মালখানা, হাজতখানা এবং ডগ স্কোয়াডের ব্যবস্থাও আইনে যুক্ত হয়েছে। আগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের হাতে অস্ত্র না থাকলেও এখন তাদের অত্যাধুনিক অস্ত্র ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সীমান্ত নিরাপত্তা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জনবল দিয়ে নজরদারি কঠিন এমন এলাকায় নাইট-মিশন ও থার্মাল ড্রোন ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে চোরাচালান, মাদক, অস্ত্র ও মানব পাচার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ শনাক্ত করা সম্ভব হবে। বিজিবির জন্য দেশে ড্রোন তৈরি ও অ্যাসেম্বল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষা শিল্প হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। আগামী দুই বছরের মধ্যে বিশ্বের সব উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন আনার পাশাপাশি সীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিজিবিকে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে।

পরে বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউসে জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও উন্নয়নসংক্রান্ত বিশেষ পর্যালোচনা সভায় অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।