জন্মের পরেই মিলবে ‘এক-আইডি’, সরকারি সেবায় নতুন উদ্যোগ

প্রকাশিত: ৪:০১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬

দেশের সব নাগরিককে জন্মের পর থেকে আজীবন ব্যবহারের উপযোগী একটি একক পরিচয়পত্র দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। ‘ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেনটিটি’ বা ‘এক-আইডি’ নামে পরিচিত এই পরিচয়পত্রটি স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে নাগরিকের স্থায়ী ও স্বতন্ত্র পরিচয় হিসেবে কাজ করবে।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ এই মহতী উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য ‘ডিজিটাল সার্ভিস ট্রান্সফরমেশন ফর অ্যাকসেস অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স’ বা ‘ডি-স্টার’ নামক একটি নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা এই প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মামুনুর রশীদ ভূঞা বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বর্তমানে দেশে জন্মের পর জন্মনিবন্ধন সনদ এবং ১৮ বছর বয়সের পর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাওয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে নতুন এই ব্যবস্থায় বয়সের কোনো সীমাবদ্ধতা থাকবে না। এটি কার্যকর হলে নাগরিকদের সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে একই তথ্য বারবার প্রদানের ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলবে। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, ভবিষ্যতে এনআইডি, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো বিদ্যমান বিভিন্ন পরিচয়পত্রের কার্যকারিতা এই এক-আইডির মাধ্যমে একীভূত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যদিও বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

এই ধারণার মূল মন্ত্র হিসেবে তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এটিকে ‘একজন নাগরিক, একটি ডিজিটাল পরিচয়, একটি ওয়ালেট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এর মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধাও পাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সিঙ্গাপুর, এস্তোনিয়া, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতাকে এই পরিচয়পত্র তৈরির ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। যদিও কার্ডে ঠিক কী কী তথ্য থাকবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি।

প্রকল্পের প্রাথমিক প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ জনশুমারির তথ্যের ভিত্তিতে দেশের প্রায় ১৮ কোটি নাগরিকের জন্য এই পরিচয়পত্র তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং ২০ কোটি কার্ড উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। প্রতিটি পলিকার্বোনেট চিপ কার্ড উৎপাদন ও মুদ্রণে প্রায় ২৪৬ টাকা এবং বিতরণ ও সরবরাহ মিলিয়ে মোট ৩৬৯ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা, যার মধ্যে সরকার ৭ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা এবং বিশ্বব্যাংক ১ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা দেবে। ব্যয়ের সিংহভাগ অর্থাৎ ৭ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা কার্ড উৎপাদন, মুদ্রণ, বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ ও বিতরণে খরচ হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের বিদ্যমান পরিচয়পত্র ও তথ্যভান্ডারের মধ্যে কার্যকর আন্তসংযোগ তৈরি হলে নাগরিকদের ভোগান্তি কমবে এবং সেবাদান প্রক্রিয়া আরও সহজ ও কার্যকর হবে।