ইরান যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সমীকরণ সাজাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশিত: ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ সমাপ্তির পর মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা ভাবছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (06 September 2026) তারিখে ০৯:১০ (09:10) এএম-এ প্রকাশিত মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। যদিও পরিকল্পনাটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে এর মূল লক্ষ্য হবে ইরানকে মোকাবেলা করতে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোকে একতাবদ্ধ করা এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক আরও গভীর করতে উৎসাহিত করা। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের কাছে প্রকাশ করেছেন যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হলে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের জন্য ‘আরও বড় কিছু’ করতে চান। এই নতুন পরিকল্পনার প্রথম ধাপে রয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের মিত্রদের আরও শক্তিশালীভাবে ঐক্যবদ্ধ করা, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই নিরাপত্তার গ্যারান্টার হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে। দ্বিতীয়ত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে পড়া সংঘাত ও উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর আওতায় ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়ন, ইসরাইল ও সিরিয়ার মধ্যে একটি নিরাপত্তা চুক্তি সম্পাদন এবং ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যকার বর্তমান চুক্তি কার্যকর করার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যটি হলো ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ বা আব্রাহাম চুক্তির পরিধি আরও বাড়ানো। বিশেষ করে ইসরাইল ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তি সম্পন্ন করা এই পরিকল্পনার অন্যতম বড় অংশ। রিয়াদ ও তেল আবিবের মধ্যে এমন চুক্তি নিশ্চিত করতে পারলে তা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বিশাল diplomatic সাফল্য এবং ইরান-পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে গণ্য হবে। এদিকে, আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর পর নভেম্বরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও মধ্যবর্তী নির্বাচন হবে। ট্রাম্প প্রশাসন আশা করছে, ইসরাইলের নির্বাচনের পর যে নতুন সরকার গঠিত হবে, তারা ওয়াশিংটনের এই নতুন পরিকল্পনায় পূর্ণ সহযোগিতা করবে। তবে ইসরাইলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে রাজি নয় ট্রাম্প প্রশাসন। নির্বাচনে যদি কোনো রাজনৈতিক অচলাবস্থাও তৈরি হয়, তবুও ট্রাম্প এই পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। জানা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহে ট্রাম্প তাঁর শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে দুটি বৈঠকে এই পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, যেখানে বিভিন্ন প্রস্তাব ও ধারণা উত্থাপন করা হয়েছে। তবে পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত হতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে কীভাবে একটি অভিন্ন কাঠামোর অধীনে আনা যায়, সেটিই এই পরিকল্পনার মূল ভিত্তি। তবে শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সব মিত্র এই নতুন সমীকরণে একমত হবে কি না, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: আব্রাহাম অ্যাকর্ডসইরান যুদ্ধইসরাইলডোনাল্ড ট্রাম্পমধ্যপ্রাচ্যমার্কিন নীতিসৌদি-আরব