গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে রাজপথে থাকার ঘোষণা জামায়াত আমিরের

প্রকাশিত: ১০:০৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই সনদ ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে শেষ পর্যন্ত রাজপথে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি জানান, এসব দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত এক বিশাল সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোট রংপুর মহানগর শাখার উদ্যোগে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এর আগে সকালে ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে এই লংমার্চ শুরু হয়ে বিভিন্ন স্থানে পথসভা শেষে রংপুরে এসে শেষ হয়। লংমার্চের মূল লক্ষ্য ছিল গণভোটের রায় ও জুলাই গণহত্যার বিচারসহ আট দফা দাবি আদায় করা।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, জনগণের আকাঙ্খার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অবিলম্বে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার করতে হবে এবং গণঅভ্যুত্থানের চেতনা অনুযায়ী গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। বিকেল ৫টায় মহানগর জামায়াতের তালিমুল কোরআন বিভাগের সভাপতি ও কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা শাহজাহান সিরাজের কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে এই সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশে বিপুল পরিমাণ মানুষের সমাগম ঘটে, যা জিলা স্কুল মাঠ ছাড়িয়ে আশপাশের সড়কেও ছড়িয়ে পড়ে এবং নগরীর বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত পরিবর্তনে যারা অবদান রেখেছেন, তাদের ভুলে যাওয়া শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করার শামিল। তিনি রংপুরের আবু সাঈদসহ সারা দেশে প্রাণ দেওয়া শহীদদের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। এছাড়া তিনি দাবি করেন, অতীতে জনগণ তাদের ভোট দিলেও একটি নির্দিষ্ট দল সেই বিজয় ছিনতাই করেছে। ২০২৬ সালের সংসদ নির্বাচনে ৬৯ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে বিষয়টি প্রমাণ করেছেন এবং তাদের দল এই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষেই ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দেশপ্রেমের কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা দেশকে ভালোবাসি বলেই দেশ ছেড়ে পালাইনি। যারা দেশকে ভালোবাসে না, কেবল তারাই পালিয়ে যায়। আমরা কোনো হুমকি, ট্যাগ বা জাগতিক শক্তিকে ভয় পাই না, আমরা একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিনকে ভয় পাই।’

উত্তরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘তিস্তা বাঁচলে মানুষ বাঁচবে।’ উত্তরাঞ্চলের জনগণ আর কোনো ফাঁকা প্রতিশ্রুতি নয়, বরং এর বাস্তব রূপ দেখতে চায়। সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত যদি দেশের স্বার্থবিরোধী হয়, তবে সংসদের ভেতরে ও বাইরে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

বর্তমান সরকারের মেয়াদ প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সরকার কতদিন ক্ষমতায় থাকবে তা নির্ভর করবে তাদের কার্যক্রম ও আচরণের ওপর। সামাজিক খাতের সরকারি বরাদ্দ সঠিকভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে সৎ শাসনের দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি নিজ নিজ এলাকায় ধর্ম, বর্ণ ও দলমত নির্বিশেষে সবার অধিকার রক্ষা করার তাগিদ দেন তিনি। তিনি দাবি করেন, দেশ পরিচালনার জন্য সৎ নেতৃত্বের প্রত্যাশা থেকেই জনগণ জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটকে সমর্থন দিয়েছে। একই সঙ্গে সমাজ থেকে মিথ্যা, গিবত ও হারাম খাবার পরিহার করে নৈতিক ও চারিত্রিক পরিবর্তনের আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় হুইপ মোহাম্মদ নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমেদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ নেজামে ইসলামী পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আব্দুল কাইউম সোবহানী, এনসিপির সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আখতার হোসেন এবং জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম খান এমপি।

এছাড়াও সমাবেশে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আজাদ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন, এনসিপির উত্তরাঞ্চল মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রফেসর ওমর ফারুকসহ জোটের অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।