১২ কোটি ডলারের বেশি অনুদান পেয়েও বন্ধ হলো জাকারবার্গের স্ত্রীর স্কুল

প্রকাশিত: 1:31 PM, August 5, 2026

মেটা’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গের স্ত্রী চিকিৎসক ড. প্রিসিলা চ্যান ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ইস্ট পালো অল্টোতে ‘দ্য প্রাইমারি স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। নিম্নআয়ের পরিবারের শিশুদের বিনামূল্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং পারিবারিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানটি ১০ বছর পর আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। চ্যান জাকারবার্গ ইনিশিয়েটিভ (সিজেডআই) থেকে ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলারেরও বেশি অনুদান পাওয়ার পরও স্কুলটির পরিচালনা পর্ষদ ২০২৫ সালের এপ্রিলে সর্বসম্মতিক্রমে এটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। মূলত ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের পর সিজেডআই আর অর্থায়ন না করার ঘোষণা দিলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এরপর চলতি বছরের জুন মাসে স্কুলটি তাদের সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।

এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে চ্যান জাকারবার্গ ইনিশিয়েটিভের অন্যতম আলোচিত শিক্ষা প্রকল্পের সমাপ্তি ঘটল। পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি জ্যঁ-ক্লদ ব্রিজার্ড ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানান, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তারা সিজেডআইয়ের সঙ্গে ধাপে ধাপে কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়াসহ বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি আরও বলেন, প্রধান অর্থদাতার সম্মতি ছাড়া পরিচালনা পর্ষদ কখনোই স্কুলটি বন্ধের পক্ষে ভোট দিত না। তবে সিজেডআইয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, স্কুলটি বন্ধের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ পরিচালনা পর্ষদের ছিল এবং তারা প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা ব্যয়ের চেয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত ফলাফলের ওপরই বেশি গুরুত্ব দিয়েছিল।

দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা শিশুদের নানা সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে প্রিসিলা চ্যানের শিশু বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতার আলোকে এই স্কুলটি গড়ে তোলা হয়েছিল। এখানে শিক্ষার পাশাপাশি শিশুদের বিনামূল্যে দাঁতের পরীক্ষা, শারীরিক ও মানসিক বিকাশের মূল্যায়ন এবং অভিভাবকদের জন্য স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বিষয়ক পরামর্শ দেওয়া হতো। স্থানীয় ক্লিনিকগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে স্কুলের কর্মীরা আচরণগত সমস্যা বা শেখার অসুবিধা রয়েছে এমন শিশুদের চিহ্নিত করতেন। স্কুলটির প্রায় ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থীর বাড়িতে ইংরেজি ছাড়া অন্য ভাষায় কথা বলা হতো। প্রতিষ্ঠার শুরুর দিকে প্রিসিলা চ্যান নিয়মিত স্কুলে যেতেন এবং শিক্ষার্থীদের বই পড়ে শোনানো থেকে শুরু করে নতুন পাঠ্যক্রম চালুর বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিতেন।

তবে বিস্তৃত এই সহায়তা ব্যবস্থা সত্ত্বেও স্কুলটি শিক্ষাগত ফলাফলের ক্ষেত্রে রাজ্যের মানদণ্ডের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হিমশিম খেয়েছে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের বসন্তে তৃতীয় শ্রেণি বা তার ওপরে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মাত্র ২৬ শতাংশ সাক্ষরতার মানদণ্ড পূরণ করতে পেরেছিল, যেখানে পুরো ক্যালিফোর্নিয়ায় এই হার ছিল ৪৭ শতাংশ। যদিও স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, শেষ বছরে অষ্টম শ্রেণির ৫০ শতাংশেরও বেশি শিক্ষার্থী দক্ষতার নির্ধারিত মান অর্জন করেছিল। স্কুলের সাবেক কর্মকর্তা ও কর্মীরাও স্বীকার করেছেন যে, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও পারিবারিক সহায়তা একই ছাতার নিচে পরিচালনা করা এবং বারবার প্রধান শিক্ষক পরিবর্তন প্রতিষ্ঠানটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।