জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে জাতীয় ইতিহাস তুলে ধরার দাবি নাহিদ ইসলামের

প্রকাশিত: ১২:১৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৮, ২০২৬

জুলাই স্মৃতি জাদুঘরকে কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর বৃত্তে বন্দি না রেখে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রকৃত ও পূর্ণাঙ্গ জাতীয় ইতিহাস হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। শনিবার জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই আহ্বান জানান।

নাহিদ ইসলাম বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদেই জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের কাজ প্রায় শেষ হয়ে এসেছিল। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় পাঁচ মাস পর এটি উদ্বোধন করেছে। এই সময়ের মধ্যে জাদুঘরের ভেতরে বেশ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিশেষ করে, নির্বাচনের পর প্রদর্শনীতে অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং জুলাই আন্দোলনের অন্যতম শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি সেখানে যথাযথভাবে স্থান পায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।

এনসিপির এই শীর্ষ নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সীমান্ত হত্যা ও ফেলানী হত্যার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু স্মৃতি এই জাদুঘর থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। কী কারণে এগুলো সরানো হলো তা স্পষ্ট নয়। তবে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক দেখানোর উদ্দেশ্যে যদি এগুলো বাদ দেওয়া হয়ে থাকে, তবে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে গিয়ে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, জাদুঘরের বিভিন্ন প্রদর্শনীতে বিএনপির ওপর নির্যাতনের কিছু বিষয় নতুন করে যোগ করা হয়েছে। অথচ জুলাই আন্দোলনে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা এবং ঢাকার বাইরের সাধারণ মানুষের যে অসামান্য অবদান ছিল, তা এখানে যথাযথভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়নি। এর পরিবর্তে কেবল পরিচিত কিছু মুখকে বারবার সামনে আনা হয়েছে, যার ফলে গণ-অভ্যুত্থানের সামগ্রিক ও প্রকৃত চিত্রটি আড়ালে পড়ে যাচ্ছে।

অতীতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির উদাহরণ টেনে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, জুলাইয়ের ইতিহাসের ক্ষেত্রেও যেন একই ধরনের দলীয়করণের চেষ্টা না করা হয়। এছাড়া জাদুঘরের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটি এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পর্যাপ্ত লোকবল ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত না করতে পারলে এর জবাবদিহিতা বজায় রাখা কঠিন হবে।

সবশেষে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরকে সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে রেখে এ ধরনের স্পর্শকাতর ও জাতীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা কঠিন। তাই গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে এটি পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া উচিত। রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে উঠে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই আন্দোলনের ত্যাগ ও বাস্তবতার নির্ভুল ইতিহাস সংরক্ষণ করাই এখন জরুরি।