ইরানের সঙ্গে আলোচনায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে: পাকিস্তান

প্রকাশিত: ২:০১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ এবং সংঘাতের অবসানে শান্তির পথ খোঁজার লক্ষ্যে তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় 'উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি' হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। মঙ্গলবার ইরান সফর শেষে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল তেহরান সফর করে এবং ইরানি নেতৃত্বের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করে। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই আলোচনায় সংঘাতের বিস্তার রোধ, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং দ্রুত যুদ্ধের অবসানের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠা ও আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির পথ নিয়েও উভয় পক্ষ মতবিনিময় করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোহসিন নাকভি জানান, ইরানের প্রেসিডেন্ট তার সরকারের অবস্থান খোলাখুলিভাবে তুলে ধরেছেন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে অত্যন্ত গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। তবে পাকিস্তান ও ইরান আলোচনার মাধ্যমে ঠিক কী ধরনের সমঝোতায় পৌঁছেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

তেহরান সফরের আগে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে। এই কূটনৈতিক তৎপরতার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এদিকে, ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশের ওপর চাপ বৃদ্ধি করছে। গত সপ্তাহে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরানকে যেকোনো ধরনের সহায়তা প্রদানকারী দেশগুলোকে অর্থনৈতিক পরিণতির মুখে পড়তে হতে পারে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সব ধরনের তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পাকিস্তানের এই উদ্যোগকে সংঘাতের বিস্তার ঠেকানো এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।