নেপালে হড়পা বানে নিখোঁজ পশ্চিমবঙ্গের ৩২ পর্যটক

প্রকাশিত: ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০২৬

নেপালে হড়পা বানের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাওয়া ৩২ জন পর্যটকের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এই বিপর্যয়ের ৩৬ ঘণ্টারও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তাদের কোনো খোঁজ না মেলায় উদ্বিগ্ন পরিবারগুলো। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, রাজ্য থেকে নেপালে যাওয়া মোট ৩৩ জনের মধ্যে একজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হলেও বাকি ৩২ জনের সঙ্গে এখনও কোনো যোগাযোগ করা যায়নি।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, নেপালে বিপর্যয়ের খবর পাওয়ার পর ভবানী ভবন ও তাঁর সচিবালয়ে দুটি পুলিশ কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সেখান থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ ৩২ পর্যটকের মধ্যে পাঁচজন কলকাতা পুলিশের আওতাধীন এলাকার বাসিন্দা। বাকি ২৭ জন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের আওতাধীন এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় থানা ও প্রশাসন তাঁদের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দফতরের সঙ্গে কথা হয়েছে। নেপালে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গেও রাজ্য সরকারের যোগাযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, নেপাল আমাদের বন্ধু-দেশ। ভারত তাদের সাহায্য করছে। আমাদের খুব বেশি কিছু করতে হবে না। তবে আমরা সজাগ।

নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার মৌখালির বাসিন্দা মিতালি মিত্র। তাঁর স্বামী প্রবীর মণ্ডল জানান, বুধবার সকাল ৭টা ২০ মিনিটে হোটেল থেকে চেকআউটের সময় স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়। মিতালি জানিয়েছিলেন, সীমান্তের দিকে যাচ্ছেন। এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি। প্রবীর জানান, বুধবার বৃষ্টির কারণে মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল ছিল এবং হোটেলের ওয়াই-ফাইও ঠিকমতো কাজ করছিল না। তিনি পর্যটন সংস্থা ও ভবানী ভবনের কন্ট্রোল রুমের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন।

দুর্গাপুরের অবসরপ্রাপ্ত বাসিন্দা সুভাষচন্দ্র বসুরও খোঁজ মিলছে না। তাঁর মেয়ে গার্গী বসু জানান, বুধবার সকাল ৬টার দিকে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়ে তাঁর বাবা জানিয়েছিলেন, তিনি সীমান্তের দিকে যাচ্ছেন। এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। চন্দননগরের বাসিন্দা শিপ্রা রায় পাটারীও নিখোঁজ। বয়সের কারণে তাঁর স্বামী রবীন পাটারী নেপাল যাওয়ার ছাড়পত্র না পাওয়ায় শিপ্রা একাই পর্যটন সংস্থার সঙ্গে যাত্রা করেন। সিঙ্গুর গোলাপ মোহিনী স্কুলের সাবেক শিক্ষিকা শিপ্রার ৬ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার কথা ছিল। শিপ্রার ভাই অখিল রায় জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বোনের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়। এরপর থেকে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

উত্তরপাড়ার ভদ্রকালী পানপাড়া বাই লেনের বাসিন্দা ক্ষিতীশ বিশ্বাস ও তাঁর স্ত্রী মমতা বিশ্বাসও নিখোঁজ। গত ২১ আগস্ট কলকাতার একটি পর্যটন সংস্থার মাধ্যমে তাঁরা কৈলাস-মানস সরোবরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। তাঁদের একমাত্র মেয়ে ১৮ বছর বয়সে দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর থেকেই তাঁরা বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করতেন বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা।

এছাড়া নেপালের রুশাই এলাকায় প্রবল জলস্রোতে সেতু ভেঙে পড়ার পর থেকে বাঁকুড়ার ইন্দপুরের বাসিন্দা অশোক পাল নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি গত ১০ বছর ধরে ওই এলাকায় একটি বিদ্যুৎ প্রকল্পে সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করছিলেন।

ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।

নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected] কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত