ট্রাম্পের নির্দেশে গ্রিসে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পদত্যাগ

প্রকাশিত: ১২:০০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৩, ২০২৬

প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে গ্রিসে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিম্বারলি গিলফয়েল পদত্যাগ করেছেন। হোয়াইট হাউসের ব্রিফিংয়ে নতুন প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়া এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এটি ছিল জাকারিয়ার দায়িত্ব গ্রহণের পর মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত প্রথম ব্রিফিং, যা ছিল তুলনামূলকভাবে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। এই সংক্ষিপ্ত ব্রিফিং কেন হয়েছে তা নিয়ে সাংবাদিকদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

পদত্যাগের পরপরই কিম্বারলি গিলফয়েল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি লেখেন, রাষ্ট্রদূত হিসেবে তার সময় শেষ হয়ে এলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, আমেরিকা ফার্স্ট আন্দোলন এবং দেশের প্রতি তার ভালোবাসা অটুট থাকবে। একই সঙ্গে তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তিনি তার নাম, সুখ্যাতি ও সততা রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাবেন।

গিলফয়েলকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে গ্রিসের রাজনীতিতে বেশ বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, যা ওয়াশিংটনের সঙ্গে গ্রিক সরকারের সম্পর্ক নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দেয়। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গত মার্চে এথেন্সে এক নৈশভোজে গিলফয়েল ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে গ্রিসসহ যেকোনো দেশের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রোমানিয়ার সরকারের পতন নিয়ে আলোচনার সময় তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা যে কোনো দেশের সঙ্গে এমনটা করতে পারি। এখানেও তা করতে পারি।’ যদিও গিলফয়েলের আইনজীবী এই কথোপকথনের ব্যাখ্যা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন।

এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর গ্রিসের বিরোধী দলগুলো প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোতাকিসের সরকারের কাছে ঘটনার ব্যাখ্যা দাবি করে। গ্রিসের জ্বালানিমন্ত্রী স্তাভরোস পাপাস্তাভরু ওই মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত গ্রিসের সরকারকে প্রতিস্থাপন করতে পারে না। এছাড়া গ্রিস ও বলকান অঞ্চলে এলএনজি রপ্তানি সম্প্রসারণে গিলফয়েলের কথিত ভূমিকা নিয়েও বিরোধী দলগুলো প্রশ্ন তুলেছিল।

তবে গ্রিক সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো হুমকির অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে। সরকারের মুখপাত্র পাভলোস মারিনাকিস দাবি করেছেন, গ্রিক সরকারকে হুমকি দেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োরগোস গেরাপেত্রিতিস গিলফয়েলকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করার দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এই বিতর্কের ফলে গ্রিসে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রভাব, দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ওয়াশিংটনের ভূমিকা এবং মিৎসোতাকিস সরকারের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের সম্পর্ক নিয়ে বৃহত্তর আলোচনা শুরু হয়েছে। গিলফয়েলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং গ্রিক সরকারের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য থাকায় ঘটনাটির প্রকৃত প্রেক্ষাপট নিয়ে বিতর্ক এখনো অব্যাহত রয়েছে।