চুয়েটে অবরুদ্ধ উপাচার্যের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় চিকিৎসকদের ভিন্ন তথ্য প্রকাশিত: ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৪, ২০২৬ চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) টানা প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। গত সোমবার দুপুর ১২টা থেকে একটি ভবনের ভেতরে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। ওই ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে এবং ফটকে তালা লাগিয়ে রাখা হয়েছে। উপাচার্যের সঙ্গে বর্তমানে আরও ১০ জন ব্যক্তি, যার মধ্যে গণমাধ্যমকর্মীরাও রয়েছেন, একই ভবনে আটকা পড়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে উপাচার্যের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য দুই দফা স্বাস্থ্য পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ভবনের একটি আলাদা কক্ষে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছেন উপাচার্য। তিনি নিজের বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত অমানবিক বলে বর্ণনা করেছেন। প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চেয়েও তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান না মেলায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে তার স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা হয়। পরে নিজ কক্ষের দরজার সামনে থেকে তিনি বলেন, আমরা এখানে খুবই অমানবিক অবস্থায় আছি। পাশের আরেকটি কক্ষেও কয়েকজন অবস্থান করছিলেন। তারা কীভাবে সহযোগিতা করবে, সেটা তাদের ব্যাপার। উপাচার্যের স্বাস্থ্য পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকদের তথ্যে ব্যাপক অসংগতি দেখা দিয়েছে। প্রথমে চুয়েট চিকিৎসাকেন্দ্রের ডা. মো. সাহাবউদ্দিন তার নাড়ির স্পন্দন ও রক্তচাপ পরীক্ষা করে সবকিছু স্বাভাবিক বলে দাবি করেন। তিনি জানান, উপাচার্য তার কাছে বুকে ব্যথার কোনো অভিযোগ করেননি কিংবা হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজনও বোধ করেননি। তবে এর পরপরই রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. টিবলু কান্তি দে উপাচার্যকে পরীক্ষা করতে যান। গণমাধ্যমকর্মীরা উপাচার্যের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চাইলে তিনি প্রথমে রাজি হননি। ডা. টিবলু কান্তি দে জানান, উপাচার্য তাকে জানিয়েছেন যে সকাল ১০টা থেকে তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করছেন। পরীক্ষার সময় ওই চিকিৎসক প্রথমে উপাচার্যের রক্তচাপ ১৪০/১০০ মিমি পারদ পেয়েছিলেন, যা পরে ১৫০/১০০ মিমি পারদ বলে জানান। এই ভিন্নতা এবং উপাচার্যের বুকে ব্যথার অভিযোগ পাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা পুনরায় স্বাস্থ্য পরীক্ষার উদ্যোগ নেন। পরে দুপুর দেড়টার দিকে পুনরায় চিকিৎসক দেখানোর আগ্রহ প্রকাশ করলে চুয়েটের চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে চিকিৎসক ডা. মো. সাহাবউদ্দিনকে সেখানে নেওয়া হয়। পুনরায় স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় উভয় চিকিৎসকের পরিমাপে বড় ধরনের পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকের পরিমাপে উপাচার্যের ডান হাতের রক্তচাপ পাওয়া যায় ১৪৫/১০০ মিমি পারদ, আর চুয়েট চিকিৎসাকেন্দ্রের ডা. সাহাবউদ্দিন একই হাতে রক্তচাপ পান ১৩৯/১০০ মিমি পারদ। বাম হাতের রক্তচাপের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ভিন্নতা দেখা গেছে। রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক বাম হাতের রক্তচাপ ১৩৫/১০০ মিমি পারদ পেলেও চুয়েটের ডা. সাহাবউদ্দিনের যন্ত্রে তা ধরা পড়ে ১২০/৮০ মিমি পারদ। নিয়মিত রক্তচাপের ওষুধ সেবন করলেও উপাচার্য ওষুধটির নাম সঠিকভাবে মনে করতে পারেননি বলে জানা গেছে। এমন অসংলগ্ন তথ্যের কারণে উপাচার্যের প্রকৃত শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। SHARES ক্যাম্পাস বিষয়: অবরুদ্ধউপাচার্যচট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়চুয়েটস্বাস্থ্য পরীক্ষা