নবীগঞ্জে কাবিটা ও টিআর প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, টাকা ফেরত

প্রকাশিত: 4:40 PM, July 22, 2026

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় কাবিটা, খাবিকা ও টিআর প্রকল্পে অস্বাভাবিক বরাদ্দ, কাজ না করেই বিল উত্তোলন এবং একই প্রকল্পে বারবার বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হবিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. রেজা কিবরিয়ার এসব প্রকল্পের বরাদ্দ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের উলুকান্দি সড়কের সাবেক মেম্বার বরকত উল্লাহর বাড়ির পাশে খালের পানি চলাচলের জন্য একটি ছোট কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। ৩ ফুট প্রস্থ ও ১৫ ফুট দৈর্ঘ্যের এই কালভার্ট প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ২ লাখ টাকা। ৮ নম্বর ওয়ার্ডে এই প্রকল্প হলেও স্থানীয় কাউকে কমিটিতে রাখা হয়নি। বেতাপুর গ্রামের শাহ আব্দুর রাজ্জাককে এই কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের মেম্বার সিজিল আহমদ সেজলু বলেন, তারা এই কাজের খবর কিছুই জানেন না এবং তার ওয়ার্ডের কাউকেই কাজে রাখা হয়নি। আউশকান্দি ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শিহাব আহমদ বলেন, যে কাজ হয়েছে তাতে সর্বোচ্চ ২০-৩০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। তিনি আরও জানান, তারা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না এবং শুনেছেন এমপির চাচা এই কাজ করছেন।

অন্যদিকে, দীঘলবাক ইউনিয়নের মসিবপুর ফজলু মিয়ার বাড়ি থেকে নুরগাঁও জামাল মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত সড়ক সংস্কার প্রকল্প দেখিয়ে ৩ লাখ টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এমদাদুল হককে এই প্রকল্পের সভাপতি করা হলেও তিনি বলেন, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। সরেজমিনে দেখা গেছে, সেখানে বাস্তবে কোনো সড়কই নেই; বরং শেরখাই নদীর একটি বাঁধকে সড়ক দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়েছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. ছালিক মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তার ইউনিয়নে এই প্রকল্পের বিষয়ে তাকে কিছুই জানানো হয়নি। সম্পূর্ণ ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে ৩ লাখ টাকা তোলা হয়েছে, যেখানে বাস্তবে কোনো সড়ক নেই।

এছাড়া আউশকান্দি ইউনিয়নের আমুকোনা জামে মসজিদের সড়ক দেখিয়ে একই প্রকল্পে ১২ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংসদ সদস্যের চাচা শাহ আজাদ আলী সুমনের বাড়ির সামনের এই সড়কের জন্য এত বড় অঙ্কের বরাদ্দ নিয়ে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শাহ আজাদ আলী সুমন জানান, তিনি প্রকল্পের সভাপতি না হলেও কাজ চলছে এবং কিছু প্রকল্পের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ড. রেজা কিবরিয়ার নিজের গ্রাম দেবপাড়া ইউনিয়নের জালালসাপের হযরত শাহ শাবুদ (রহ.) মাজার সড়কের কাজে ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও সেখানে পুরোনো ইট ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ৩০০ ফুট কাজ করার কথা থাকলেও বাস্তবে মাত্র ২০০ ফুট কাজ হয়েছে।

এসব অনিয়ম নিয়ে আউশকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহ এবাদুর রহমান দারা বলেন, তার ইউনিয়নে এভাবে প্রকল্প দেওয়া হলেও তিনি কিছুই জানেন না। তাদের মতামত নেওয়া হলে এমনটি হতো না। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিদুর রহমান বলেন, শাহ আজাদ আলী সুমন এমপি সাহেবের এসব বরাদ্দ তাদের না জানিয়ে মনগড়াভাবে দিয়েছেন, যা দলের সুনাম নষ্ট করেছে। কাজে অনিয়ম হলে প্রশাসন যেন ব্যবস্থা নেয়, সেই দাবি জানান তিনি।

প্রকল্পগুলোর বিষয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের সহকারী হাবিবুর রহমান জানান, কালভার্ট প্রকল্পের অর্ধেক টাকা, অর্থাৎ ১ লাখ টাকা, ১৯ জুলাই সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। পরদিন দীঘলবাকের প্রকল্পের টাকাও ফেরত দেওয়া হবে বলে তিনি জানান। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাশেদুর রহমান স্বীকার করেছেন যে, শাহ আজাদ আলী সুমনের অনুরোধে কিছু কাজ না দেখেই তারা বিল দিয়েছিলেন। এখন অভিযোগ ওঠায় বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমীন বলেন, তারা এসব কাজের বিষয়ে অবগত হয়েছেন এবং কিছু টাকা ফেরত এসেছে। বাকি কাজের বিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সরেজমিনে প্রকল্পগুলো পরিদর্শন করা হবে। তবে এ বিষয়ে জানতে সংসদ সদস্য ড. রেজা কিবরিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।