রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ: সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী করণীয় ও নির্বাচন প্রক্রিয়া

প্রকাশিত: 5:02 PM, July 24, 2026

শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিকের পোস্টের পর থেকেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ এবং পরবর্তী নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি তার পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে জমা দিতে পারেন। পদত্যাগপত্র দেওয়ার পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত কিংবা রাষ্ট্রপতি পুনরায় কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে, ক্ষেত্রমত রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত কিংবা রাষ্ট্রপতি পুনরায় স্বীয় কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময়সীমা সম্পর্কে সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের ফলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে, পদটি শূন্য হওয়ার নব্বই দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান বাধ্যতামূলক। নির্বাচন কমিশনকে এই সময়ের মধ্যে ভোটার তালিকা প্রস্তুত করে নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার যোগ্যতার বিষয়ে সংবিধানের ৪৮(৪) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হবেন না, যদি তিনি পঁয়ত্রিশ বছরের কম বয়স্ক হন, অথবা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য না হন, অথবা অতীতে এই সংবিধানের অধীন অভিশংসন দ্বারা রাষ্ট্রপতির পদ হতে অপসারিত হয়ে থাকেন। সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি পদের নির্বাচন অনুষ্ঠান করবে এবং ভোটার তালিকা প্রস্তুত করবে।

উল্লেখ্য যে, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে বিভিন্ন মহল থেকে তার অপসারণের দাবি উঠেছিল। এর আগে গত ৯ মে তিনি স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য লন্ডনে যান এবং ১৮ মে দেশে ফিরে আসেন। এর দুই মাসের মাথায় সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জন উঠলো।