দিল্লিতে বিক্ষোভে ছররা গুলির অভিযোগ, হাসপাতালে মিলল ক্ষতচিহ্ন

প্রকাশিত: 4:30 PM, July 24, 2026

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের বিরুদ্ধে ছররা গুলি (পেলেট) ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সিজেপির এই বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক আন্দোলনকারীর শরীরে ছররা গুলির আঘাতের প্রমাণ মিলেছে একটি সরকারি হাসপাতালের প্রতিবেদনে। তবে দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর পেলেট গান ব্যবহারের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ২০ জুলাই নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল বের করে সিজেপি। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, যন্তর মন্তর থেকে পার্লামেন্টের দিকে যাওয়ার সময় তাদের পথরোধ করতে পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করে। সেদিন বিকেল ৪টার দিকে ২৮ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারীকে আহত অবস্থায় দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালের কেস শিটের তথ্য অনুযায়ী, ওই যুবকের ডান কনুই ও পিঠে ছররা গুলির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ক্ষতের চারপাশের চামড়া কালো হয়ে গেছে এবং সেখানে তীব্র ব্যথার পাশাপাশি চামড়ার নিচে গুলির ছোট ছোট টুকরো আটকে থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে দিল্লি পুলিশ এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর পেলেট গান চালানোর এই খবরটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আরও কয়েকজন আন্দোলনকারীও ছররা গুলিতে আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সাহিল লোচাব নামের এক বিক্ষোভকারীর ডান চোখে পেলেটের আঘাত লেগেছে। তার চোখে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে আরও অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া হরিয়ানার গুরুগ্রামের বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সী শেখ মনসুরিও আহত হয়েছেন। তার মুখ, চোখ ও কপালসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে ছররা গুলির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

সাধারণত সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) আওতাধীন র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) পেলেট গান ও শক ব্যাটন ব্যবহার করে থাকে। ঘটনার দিন দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি যন্তর মন্তরে আরএএফ মোতায়েন ছিল। তবে পেলেট গান ব্যবহারের বিষয়ে সিআরপিএফ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এর আগে ২০১০ সালে কাশ্মীরে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে এবং পরবর্তীতে ২০১৬ সালে হিজবুল মুজাহিদিন নেতা বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পর বিক্ষোভ দমনে পেলেট গান ব্যবহারের নজির রয়েছে।

এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রেখে আগামী সপ্তাহে সংসদে একটি নতুন বিল আনা হবে। তবে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে শুক্রবার দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রীকে প্রথমে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে এবং যারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পেলেট গান ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধীও এক নিবন্ধে অভিযোগ করেছেন, শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন দমনে কেন্দ্রীয় সরকার চরম কাপুরুষতা ও অকারণ নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন করেছে।