বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প ও প্রবাসীদের নিয়ে ত্রিপক্ষীয় ইকোসিস্টেম গড়বে সরকার প্রকাশিত: 7:38 PM, July 25, 2026 বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প কারখানা এবং প্রবাসীদের সমন্বয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে সরকার। শনিবার বিকেলে রাজধানীর নভোথিয়েটারে আয়োজিত ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট ২০২৬’-এ এ কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। ‘বৈশ্বিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ভবিষ্যৎ নির্মাণ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে দুই দিনব্যাপী এই সামিট আয়োজনে সহযোগিতা করেছে সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং সিলিকন রিভার বাংলাদেশ কর্মসূচি। সকালে সামিটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, দেশের শিল্পখাতের বিকাশে একটি শক্তিশালী ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা জরুরি। দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থাকায় তরুণ শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, ক্লাব, সেমিনার ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, রোবোটিক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো বিষয়গুলোকে কেবল তাত্ত্বিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সেগুলোকে অ্যাপ্লিকেশন লেভেলে ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। প্রবাসীদের মেধা ও অভিজ্ঞতাকে দেশের কাজে লাগানোর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে প্রবাসীদের নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয় ও কমিউনিটির সাথে যুক্ত করার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির প্রতিশ্রুতি রয়েছে। ব্রেইন ড্রেনকে ব্রেইন সার্কুলেশনে রূপান্তর করার লক্ষ্য নিয়ে প্রবাসী প্রকৌশলী ও পেশাজীবীদের রাষ্ট্রগঠনমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা হবে। তিনি আরও বলেন, বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাংলাদেশি মেধাবীদের সঠিক মূল্যায়ন ও চর্চার সুযোগ তৈরি করা হবে। উচ্চশিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে শিল্পখাত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইন্টার্নশিপ, সামার স্কুল ও শিল্প বিশেষজ্ঞদের ভিজিটিং লেকচারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন নিশ্চিত করতে হবে। গবেষণার ক্ষেত্রে বর্তমান ঘাটতিগুলো স্বীকার করে তিনি জানান, এবারের বাজেটে উচ্চশিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই বরাদ্দের একটি বড় অংশ ল্যাবরেটরি স্থাপন, আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ এবং গবেষণাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে ব্যয় করা হবে। তিনি স্থানীয় শিল্পখাতকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যৌথভাবে আঞ্চলিক সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানান। সরকারের মধ্যমেয়াদী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মাহ্দী আমিন জানান, উন্নত দেশের আদলে বিশেষায়িত গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে, যেখানে মৌলিক গবেষণার পাশাপাশি বাস্তব জীবনের সমস্যার প্রয়োগিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থাকে কেবল জ্ঞানভিত্তিক নয়, বরং প্রয়োগভিত্তিক করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে মূলধারায় রূপান্তর করার কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সবাইকে মূলধারার বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে হবে না, বরং কারিগরি শিক্ষাকে প্রধান ধারায় আনতে সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। SHARES জাতীয় বিষয়: উচ্চশিক্ষাত্রিপক্ষীয় ইকোসিস্টেমপ্রবাসীদের অংশগ্রহণমাহ্দী আমিনসেমিকন্ডাক্টর সামিট