ইউরোপে মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশিত: ১:৩১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০২৬ ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত উদ্বেগজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে বলে মার্কিন ও ন্যাটো কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতি সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে, যা রাশিয়ার উচ্চগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপে নিযুক্ত একজন মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা এবং একজন ন্যাটো কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, এই ঘাটতি ‘সংকটজনক অবস্থার চেয়েও বেশি’। ন্যাটো দেশগুলোর কাছে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের এই স্বল্প মজুত সম্ভাব্য রুশ হামলার মুখে তাদের দুর্বলতা বাড়িয়ে তুলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন যে, ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দীর্ঘস্থায়ী কোনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকানোর মতো পর্যাপ্ত প্যাট্রিয়ট নেই এবং একটি মাত্র হামলা মোকাবিলার সক্ষমতাও এখন সীমিত। এই মজুত হ্রাসের পেছনে প্রধানত মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের প্রভাব দায়ী। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক ব্যবহার করায় ইউরোপের মজুত থেকে কিছু অংশ সরিয়ে নিতে হয়েছে। এছাড়া ইউক্রেনকে সরবরাহ করা প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের কারণেও মার্কিন মজুত কমেছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়াকে সম্ভাব্য হামলা থেকে বিরত রাখতে সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ এই সপ্তাহে মস্কো সফর করেছেন। তবে ন্যাটো ও পেন্টাগন এই ঘাটতির মাত্রা নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছে। ন্যাটোর মুখপাত্র কর্নেল মার্টিন ও’ডোনেল দাবি করেছেন যে, ইউরোপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ‘ক্রিটিক্যাল’ পর্যায়ে পৌঁছায়নি এবং ন্যাটোর নিজেদের প্রতিরক্ষা ও ইউক্রেনকে সহায়তা—উভয় ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত অস্ত্র রয়েছে। পেন্টাগনও মজুত সংকটের দাবিকে ‘মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, মজুত কম থাকায় ইউরোপের হাতে বিকল্পও সীমিত। তাদের মতে, রাশিয়ার উন্নত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার জন্য প্যাট্রিয়টের বিকল্প খুব কমই অবশিষ্ট আছে। যদিও ফ্রান্স ও ইতালির এসএএমপি/টি এনজি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিছুটা সহায় হতে পারে, তবে এটি প্যাট্রিয়টের তুলনায় কম পাল্লার এবং এর নতুন সংস্করণটি এখনো যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত নয়। ইউরোপীয় ও ন্যাটো কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, ২০৩০ সালের মধ্যে রাশিয়া ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোতে হামলার মতো অবস্থানে থাকতে পারে। যদিও বর্তমানে রাশিয়ার সরাসরি ন্যাটো হামলার আশঙ্কা নেই এবং ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে মস্কোর সামরিক সক্ষমতাও চাপের মুখে রয়েছে। মার্কিন ও ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের মতে, ইরান যুদ্ধের কারণে দ্রুত ক্ষয় হওয়া প্যাট্রিয়ট মজুত ইউরোপের আকাশ প্রতিরক্ষার বর্তমান দুর্বলতা স্পষ্ট করে তুলেছে। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: ইউরোপক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষান্যাটোপ্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রযুক্তরাষ্ট্র