জীবনযাত্রার ব্যয় ও আবাসন সংকটে উত্তপ্ত ইউরোপ, রাজপথে হাজারো মানুষ প্রকাশিত: ৬:১১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৫, ২০২৬ জীবনযাত্রার অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি, তীব্র আবাসন সংকট, জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং সরকারি নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইউরোপের একাধিক দেশ। প্যারিস থেকে তিরানা এবং মাদ্রিদ থেকে রোম—সবখানেই ছড়িয়ে পড়েছে আন্দোলনের ঢেউ। ফ্রান্সে গণগ্রেপ্তার, আলবেনিয়ায় কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ, ইতালিতে নিরাপত্তা কড়াকড়ি এবং স্পেন ও পর্তুগালে আবাসন সংকট ঘিরে তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান কর্মসূচির মতো ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসন্তোষের পাশাপাশি এই আন্দোলন রাজনৈতিক উত্তেজনাকেও বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফ্রান্সে শনিবারের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে প্রায় এক হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ অভিযোগ করেন, বিক্ষোভের একাংশে বিশেষ করে কালো পোশাক পরা উগ্রপন্থীরা পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ও আতশবাজি ছুড়ে চরম সহিংসতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তবে দিনের বড় অংশজুড়ে আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ছিল বলেও জানান তিনি। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, শনিবার সারাদেশে প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন, যার মধ্যে কেবল প্যারিসেই ছিলেন ১ লাখ ১০ হাজার জন। অন্যদিকে আন্দোলনের অন্যতম আয়োজক শ্রমিক ইউনিয়ন সিজিটি দাবি করেছে, দেশজুড়ে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ এবং রাজধানীতে এই সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৫০ হাজার। প্যারিস ছাড়াও লিয়ঁ, লিল, মার্সেই, মন্টপেলিয়ের, নঁত ও তুলুজে সংঘাতের খবর পাওয়া গেছে। প্যারিসে ৩ হাজারের বেশি মানুষকে থামিয়ে তল্লাশি করা হয় এবং সেখান থেকে ৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিকে ফ্রান্সের এই রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার জর্জিয়ার পেরি শহরে এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি দাবি করেন, অবাধে অভিবাসীদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার কারণেই ফ্রান্স এখন জ্বলছে। তার অভিযোগ, ফ্রান্সে যাওয়া কিছু অভিবাসী দেশটিকে ভালোবাসেন না এবং সেখানকার ঐতিহাসিক স্থাপনা ও শিল্পকর্মের প্রতিও তাদের কোনো শ্রদ্ধা নেই। এ ধরনের মানুষকে নিজ দেশে প্রবেশ করতে না দেওয়ার পক্ষে নিজের শক্ত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন ট্রাম্প। আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় শনিবার হাজার হাজার মানুষ সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেন। মে মাসে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের মূল সূত্রপাত ঘটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বিলাসবহুল হোটেল উন্নয়ন প্রকল্পের বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে। অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে আন্দোলন সহিংস হয়ে উঠলে পুলিশ তা নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছোড়ে, অন্যদিকে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে আতশবাজি নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে কয়েকটি সরকারি ভবনে হামলা চালানো হয় এবং তিন শতাধিক বিক্ষোভকারী ও পুলিশ সদস্য আহত হন। এই ঘটনায় কয়েক ডজন আন্দোলনকারীকে পুলিশ আটক করেছে। কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ইতালিতেও হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমেছেন। আটটি শহরে সহিংস সংঘর্ষের পর পুলিশ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং ৩৭১ জনকে সাময়িকভাবে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে, যাদের মধ্যে ১১০ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকার নিরাপত্তার কড়াকড়ি জোরদার করায় বিক্ষোভের আগেই বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। আবাসন ব্যয়, জ্বালানির দাম ও জীবনযাত্রার খরচের প্রতিবাদে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ট্রাকচালক ও কৃষকদের মধ্যে তৈরি হওয়া ক্ষোভ থেকে এই আন্দোলনের জন্ম। স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের পুয়ের্তা দেল সোল চত্বর এখন আবাসন সংকটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর ভাড়া অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় ৮৭ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে উচ্ছেদ করা হলে দেশজুড়ে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এক মাস আগে ছোট পরিসরে শুরু হওয়া তাঁবু শিবিরটিতে এখন শত শত মানুষ অবস্থান করছেন, যেখানে খাবার বিতরণ কেন্দ্র ও চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সমাজতান্ত্রিক সরকার উচ্ছেদ সীমিতকরণ ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি সম্পর্কিত দুটি জরুরি বিল আনলেও সংখ্যালঘু সরকার তা সংসদে পাস করাতে পারেনি। ফলে ২৯ নভেম্বর আগাম সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন সানচেজ। পর্তুগালেও তীব্র আকার ধারণ করেছে আবাসন সংকট। ২০১৭ সালের পর দেশটিতে বাড়ির দাম ও নতুন চুক্তিগুলোর ভাড়া দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে, যা তরুণদের ওপর প্রচণ্ড আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে। রোববার ভোরে রাজধানী লিসবনের রসিও চত্বরে বিক্ষোভকারীদের গড়ে তোলা শতাধিক তাঁবুর শিবির উচ্ছেদ করে পুলিশ। রাত ২টার পর পুলিশ কুকুর নিয়ে অভিযান চালিয়ে তাঁবু সরিয়ে ফেলা হয় এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিক্ষোভকারীরা সহজ উচ্ছেদ আইন প্রত্যাহার এবং নতুন চুক্তিতে সর্বোচ্চ ভাড়া নির্ধারণের সীমা পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন। বিভিন্ন দেশে দাবির প্রকৃতি ভিন্ন হলেও অর্থনৈতিক চাপ ও সরকারি নীতিই এই ইউরোপজুড়ে অসন্তোষের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফ্রান্সে প্রায় ১,০০০ গ্রেপ্তারফ্রান্সে শনিবারের বিক্ষোভ ঘিরে দেশজুড়ে প্রায় এক হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বিক্ষোভের একাংশে ‘অত্যন্ত উচ্চমাত্রার সহিংসতার’ অভিযোগ করেছেন। তবে দিনের অধিকাংশ সময় বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ ছিল বলে জানান তিনি। তার অভিযোগ, কালো পোশাক পরা উগ্রপন্থীরা পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়েছে এবং আতশবাজি ব্যবহার করে সংঘর্ষ উসকে দেয়ার চেষ্টা করেছে।দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, শনিবার দেশজুড়ে প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। এর মধ্যে প্যারিসে ছিলেন প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার। তবে অন্যতম আয়োজক শ্রমিক ইউনিয়ন সিজিটি দাবি করেছে, দেশজুড়ে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ, যার মধ্যে রাজধানীতেই ছিলেন ২ লাখ ৫০ হাজার।প্যারিস, লিয়ঁ, লিল, মার্সেই, মন্টপেলিয়ের, নঁত ও তুলুজে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। প্যারিসে তিন হাজারের বেশি মানুষকে থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। সেখানে ৬৫ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। আলবেনিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, কাঁদানে গ্যাসআলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় শনিবার সরকারবিরোধী বিক্ষোভে হাজারো মানুষ অংশ নিয়েছেন। কয়েক দিন ধরে চলা সহিংস অস্থিরতার মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে দেশটির পুলিশ।অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি উন্নয়ন প্রকল্পের বিরোধিতা থেকে আন্দোলনের সূত্রপাত।কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কয়েকটি সরকারি ভবনে হামলা হয়েছে। আটক করা হয়েছে কয়েক ডজন বিক্ষোভকারীকে। আহত হয়েছেন ৩০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী ও পুলিশ সদস্য। শনিবারের বিক্ষোভে পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে। অন্যদিকে কিছু বিক্ষোভকারী নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে আতশবাজি নিক্ষেপ করেন। আন্দোলনটি শুরু হয়েছিল গত মে মাসে। ট্রাম্পের পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বিলাসবহুল হোটেল প্রকল্পের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকে এর সূত্রপাত। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: আন্তর্জাতিক খবরআবাসন সংকটইউরোপফ্রান্সবিক্ষোভস্পেন