৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর চুয়েট ছাড়লেন নতুন উপাচার্য প্রকাশিত: ১১:২২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৩, ২০২৬ চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে দীর্ঘ ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ রাখার পর অবশেষে উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম ঘটনাস্থলে পৌঁছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং উপাচার্যকে ভবন থেকে বের করে নিয়ে যান। উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে বা পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তিনি যেন আর ক্যাম্পাসে না আসেন—এমন শর্তেই তাকে ক্যাম্পাস ছাড়তে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট করেছেন যে, তাদের এই আন্দোলন উপাচার্যের ব্যক্তিগত বা তার বিরুদ্ধে ছিল না। তবে তারা অভিযোগ করেন যে, তিনি তালা ভেঙে অফিসে প্রবেশ করেছিলেন। এছাড়া আন্দোলনরতদের অভিযোগ, তিনি শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন আটকে রেখেছিলেন এবং অনেক শিক্ষককে হুমকিও দিয়েছেন। ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২১ সেপ্টেম্বর, যখন অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করে কুয়েটের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ এবং শিক্ষক-কর্মকর্তারা ‘কর্মবিরতি’ শুরু করেন। সোমবার সকালে ছাত্রদল নেতাদের সহায়তায় উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে দপ্তরে প্রবেশ করলে শিক্ষার্থীরা ভবনটিতে তালা লাগিয়ে দেন। এর মধ্যেই চুয়েট শিক্ষার্থীদের বাসে হামলার ঘটনা ঘটে, যার পেছনে উপাচার্যের ইন্ধন ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। উদ্ধার কার্যক্রমের সময় উপাচার্যের সঙ্গে থাকা অন্যদেরও অ্যাম্বুলেন্সে করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, উপাচার্য সরকারিভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত এবং তিনি বর্তমানে অসুস্থ। তাই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে চুয়েটের সাবেক ছাত্র এবং অ্যালামনাই। পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম জানান, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার পর তারা বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরেছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই উপাচার্যকে বের করে আনা সম্ভব হয়েছে। একজন নাগরিক হিসেবে তার সুচিকিৎসার অধিকার রয়েছে। দীর্ঘ অবরুদ্ধ সময়ে উপাচার্যের স্বাস্থ্যের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দুই দফায় তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। এর ফলে গত কয়েক দিন ধরে চলে আসা অচলাবস্থার অবসান ঘটে, তবে ক্যাম্পাসে নতুন উপাচার্যের আগমন নিয়ে শিক্ষার্থীদের দেওয়া শর্তটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। SHARES ক্যাম্পাস বিষয়: আন্দোলনউপাচার্যচট্টগ্রামচুয়েটশিক্ষার্থী