২০২৬ বিশ্বকাপে ম্যাচ পাতানোর সন্দেহ, তদন্তের দাবি কোপেনহেগেন গ্রুপের

প্রকাশিত: 3:02 PM, July 25, 2026

স্পেনের শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে। তবে টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে কথিত ম্যাচ পাতানো (ম্যাচ-ফিক্সিং) এবং অস্বাভাবিক বেটিং কার্যক্রমের অভিযোগ। স্বাধীন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা কোপেনহেগেন গ্রুপ জানিয়েছে, বিশ্বকাপের কয়েকটি ম্যাচে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে তদন্তের প্রয়োজন হতে পারে। তবে তারা ম্যাচ-ফিক্সিং প্রমাণিত হয়েছে এমন দাবি করেনি, বরং সম্ভাব্য অনিয়মের ইঙ্গিত বা ‘বেটিং অ্যালার্ট’ চিহ্নিত করেছে। অনলাইন মারকার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কোপেনহেগেন গ্রুপের পর্যবেক্ষণে বিশ্বকাপের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড় থেম্বা জোয়ানের লাল কার্ড দেখা। এছাড়া গ্রুপ পর্বে স্পেন ও কেপ ভার্দের মধ্যকার গোলশূন্য ড্র এবং স্পেন বনাম সৌদি আরব ম্যাচে ভিএআরের (VAR) মাধ্যমে ফেরান তোরেসের গোল বাতিল করতে তিন মিনিটেরও বেশি সময় লাগার বিষয়টিও তাদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

আরেকটি বিতর্কিত ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানকে নিয়ে। তার লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা ফিফার সিদ্ধান্তে প্রত্যাহার হওয়ায় তিনি বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে খেলার সুযোগ পান। দ্য অ্যাথলেটিকের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে ফিফার কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছে কোপেনহেগেন গ্রুপ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বালোগান লাল কার্ড দেখার একদিন পর ২রা জুলাই ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক ভবিষ্যদ্বাণীমূলক প্ল্যাটফর্ম পলিমার্কেটে একটি বেটিং মার্কেট চালু হয়। সেখানে প্রশ্ন ছিল—‘ফোলারিন বালোগান কি বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলবেন?’ এর ঠিক তিন দিন পর, অর্থাৎ ৫ই জুলাই ফিফা তার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়।

অবশ্য প্রতিযোগিতায় অনিয়ম ঠেকাতে গঠিত ফিফা ইন্টেগ্রিটি টাস্ক ফোর্স ভিন্ন তথ্য দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচের সবকটিই সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেছে এবং কোনো সন্দেহজনক বেটিং কার্যক্রম তাদের নজরে আসেনি। কোপেনহেগেন গ্রুপের সতর্কতা এবং ফিফার পর্যবেক্ষণের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও, এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচে ম্যাচ-ফিক্সিংয়ের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। বিষয়টি বর্তমানে কেবল সন্দেহ ও পর্যবেক্ষণের পর্যায়ে রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কোনো দল, খেলোয়াড় বা ম্যাচকে আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যাচ-ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত বলে ঘোষণা করা হয়নি।