বাদ পড়া এলাকায় ১৬ লাখ হাম-রুবেলা টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত

প্রকাশিত: ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০২৬

দেশের যেসব ছোট ছোট এলাকায় শিশুরা এখনো হাম-রুবেলার টিকা পায়নি, সেসব এলাকায় দ্রুত টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হামের রোগী ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে চিকিৎসা নির্দেশিকা বা গাইডলাইন ব্যাপকভাবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে চিকিৎসকদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে।

গত রোববার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত টিকাবিষয়ক আন্তসংস্থা সমন্বয় কমিটির (আইসিসি) সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী জানান, সভায় হামে আক্রান্তদের বয়সভিত্তিক তথ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের ১০ শতাংশের বয়স ছয় মাসের নিচে, ৭৪ শতাংশের বয়স ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস, ১৪ শতাংশের বয়স ৫ থেকে ১০ বছর এবং বাকি ২ শতাংশের বয়স ১০ থেকে ১৪ বছর বা তার বেশি। সচিব বলেন, যেসব নির্দিষ্ট এলাকায় ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুরা টিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাদের সবাইকে টিকার আওতায় আনা হবে। এ কাজে ব্যবহারের জন্য বর্তমানে ১৬ লাখ টিকা মজুত রয়েছে।

সভায় উপস্থিত একাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, হামের ক্লিনিক্যাল গাইডলাইন আগেই চূড়ান্ত করা হয়েছে, এখন তা মাঠপর্যায়ে ব্যাপকভাবে প্রচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিকে গতিশীল করতে মাঠপর্যায়ে শূন্য পদে লোক নিয়োগের বিষয়টিও সভায় গুরুত্ব পেয়েছে। এছাড়া আগামী বছর যাতে টিকার কোনো ঘাটতি না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ এপ্রিল থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী ১ কোটি ৯৩ লাখ ৬৩ হাজার ৯১২ শিশুকে হামের এক ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে।