রুমায় ১৫ দিনে ৮ শিশুর মৃত্যু, টিকাদানে অবহেলার অভিযোগে তদন্তের দাবি

প্রকাশিত: 12:32 PM, July 29, 2026

বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলার একটি দুর্গম পাড়ায় গত ১৫ দিনে অন্তত আটটি শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। রুমা সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লেতংসে খুমী পাড়ার এই ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে তীব্র শোক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, মৃত শিশুদের অধিকাংশেরই বয়স প্রায় ৫ থেকে ৬ বছর এবং তারা হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সচেতন মহল ও পাড়াবাসীর অভিযোগ, প্রায় ৫-৬ বছর আগে এই এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী স্বাস্থ্য সহকারীর চরম অবহেলার কারণে অনেক শিশুই জন্মের পর নিয়মিত টিকা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছিল। তাদের দাবি, ওই সময়ে যদি নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী টিকাদান কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা করা হতো, তবে হয়তো আজকের এই মর্মান্তিক পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতো। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মকর্তা জানান, প্রায় ৫-৬ বছর আগে বগালেক কেন্দ্রের আওতায় লেতংসে খুমী পাড়া এলাকায় আব্দুল মুশা নামে এক স্বাস্থ্য সহকারী দায়িত্ব পালন করতেন। তার দায়িত্ব পালন নিয়ে এলাকায় নানা বিতর্ক ও অভিযোগ রয়েছে। তবে আব্দুল মুশা তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি লেতংসে খুমী পাড়া ব্লকে মাত্র ১-২ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন, তাও প্রায় ১০ বছর আগে। তাই বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তার তখনকার দায়িত্বকালকে মেলানো ঠিক হবে না।

এদিকে, বর্তমানে ওই এলাকার দায়িত্বে নিয়োজিত এবং সম্প্রতি কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ পাওয়া সহকারী স্বাস্থ্যকর্মী সুস্মিতা তালুকদার নিজের স্বপক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে তিনি চাকরিতে যোগ দিয়েছেন এবং তার চাকরির বয়স মাত্র আড়াই বছরের মতো। যোগদানের পর থেকে তিনি নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এবং বর্তমানে ২-৩ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে এ ধরনের কোনো সমস্যা দেখা যায়নি। তিনি বলেন, যেসব শিশু মারা যাচ্ছে তাদের বয়স ৫-৬ বছর। শুরুতে তাকে শুধু পলি মৌজার দায়িত্ব দেওয়া হলেও বর্তমানে রুমা ও পলি মৌজা মিলিয়ে মোট ৩৯টি পাড়ায় একা কাজ করতে হচ্ছে। একজন নারী স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যাতায়াতের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন বলে দাবি করেন। শোকজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এতে তার কোনো দোষ নেই; বরং ৫ বছর আগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী আব্দুল মুশার অবহেলার কারণেই আজকের এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল্লাহ হাসান জানান, ৪-৫ বছর আগে ওই এলাকায় কে দায়িত্বে ছিলেন সে বিষয়ে তার কাছে তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য নেই। তবে বর্তমান হাম-সংক্রান্ত পরিস্থিতির বিষয়ে তথ্য গোপন রাখার দায়ে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য সহকারী সুস্মিতা তালুকদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ বিষয়ে জানান, কাকে শোকজ করা হয়েছে সে বিষয়ে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে হামে আক্রান্ত কোনো রোগীর পরিবার যদি আর্থিক সংকট বা যাতায়াতের অভাবে চিকিৎসা নিতে না পারে, তবে বিষয়টি তাকে জানালে সরকারি নিয়মে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শিশু মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় এবং টিকাদানে গাফিলতি থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিয়মিত টিকাদান ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন তারা।

বর্তমানে ওই এলাকার দায়িত্বে থাকা শোকজ প্রাপ্ত সহকারী স্বাস্থ্যকর্মী সুস্মিতা তালুকদার বলেন,“আমি ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে চাকরিতে যোগদান করেছি। যোগদানের পর থেকে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করছি। বর্তমানে ২–৩ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে এ ধরনের সমস্যা দেখা যায়নি।

অন্যদিকে, স্বাস্থ্য সহকারী আব্দুল মুশা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি লেতংসে খুমী পাড়া ব্লকে মাত্র ১–২ বছর দায়িত্ব পালন করেছি এবং সেটিও প্রায় ১০ বছর আগে। বর্তমান ঘটনার সঙ্গে আমার দায়িত্বকালকে যুক্ত করা ঠিক হবে না।