বিদেশি ঋণ পরিশোধে রেকর্ড, বিদায়ী বছরে শোধ ৪৫০ কোটি ডলার প্রকাশিত: 8:30 PM, August 2, 2026 বিদায়ী অর্থবছরে বিদেশি ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) রোববার প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সুদ ও আসল মিলিয়ে মোট ৪৪৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। এর আগে কখনোই এক অর্থবছরে এত বড় অংকের ঋণ পরিশোধ করতে হয়নি। আগের অর্থবছরে এই পরিশোধের পরিমাণ ছিল ৪০৯ কোটি ডলার। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদেশি ঋণের দায় ক্রমাগত বেড়ে চলায় তা জাতীয় অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে প্রতি মাসে গড়ে সাড়ে ৩৭ কোটি ডলারের বেশি ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে। এই মোট অংকের মধ্যে ঋণের আসল বাবদ ২৯৫ কোটি ডলার এবং সুদ বাবদ ১৫৪ কোটি ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। ঋণ পরিশোধের এই ক্রমবর্ধমান ধারা গত ১৪ বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়। ২০১২-১৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ মোট ১১০ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধ করেছিল। প্রায় ১০ বছর পর ২০২১-২২ অর্থবছরে তা বেড়ে ২০১ কোটি ডলারে দাঁড়ায় এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা পৌনে ৩০০ কোটি ডলারে পৌঁছায়। অর্থাৎ গত ১৪ বছরে বিদেশি ঋণ পরিশোধের পরিমাণ চার গুণেরও বেশি বেড়েছে। ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়লেও গত অর্থবছরে বিদেশি ঋণ ছাড় ও প্রতিশ্রুতির পরিমাণ কমেছে। গত অর্থবছরে ঋণ ছাড় হয়েছে ৮০৭ কোটি ডলার, যেখানে আগের একই সময়ে ঋণ প্রতিশ্রুতি এসেছিল ৮৩২ কোটি ডলারের। ঋণ সহায়তাকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে বিশ্বব্যাংক ২০৭ কোটি ডলার দিয়ে শীর্ষে রয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ১৯১ কোটি ডলার ছাড় করেছে এবং তৃতীয় স্থানে থাকা রাশিয়া দিয়েছে ১০৫ কোটি ডলার। তবে ভারত ও চীন বিদায়ী অর্থবছরে নতুন কোনো ঋণ প্রতিশ্রুতি দেয়নি। ভবিষ্যতে ঋণের এই চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইআরডি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, হজরত শাহজালাল (রা) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, কর্ণফুলী নদীর তলদেশের টানেল এবং মেট্রোরেল প্রকল্পের মতো বড় মেগা প্রকল্পগুলোর গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ায় কিস্তি পরিশোধ শুরু হয়েছে। এর ফলে বড় ধরনের আর্থিক দায়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে দেশকে। ইআরডির প্রতিবেদন অনুসারে, বিদায়ী অর্থবছরের (২০২৫–২৬) বিদেশি ঋণের সুদ ও আসলসহ মিলিয়ে প্রায় ৪৪৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার শোধ করেছে বাংলাদেশ। বিদায়ী ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বিদেশি ঋণ পরিশোধ বাবদ প্রায় ৪৫০ কোটি ডলার দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে, অর্থাৎ গত ১৪ বছরে বিদেশি ঋণ পরিশোধ বেড়ে প্রায় চার গুণের বেশি হয়েছে।.ভবিষ্যতে ঋণের চাপ আরও বাড়বে। SHARES অর্থনীতি বিষয়: অর্থনীতিইআরডিঋণ পরিশোধবাংলাদেশবিদেশি ঋণ