তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে বিএনপির বিশেষ পরিকল্পনা প্রকাশিত: ১১:৩৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০২৬ আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি ও দলকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। নির্বাচন কমিশন আগামী সেপ্টেম্বর থেকে উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করার পরিকল্পনা করছে। এই নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে বিএনপি, যেখানে দলীয় প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি তৃণমূলের সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটানোই মূল লক্ষ্য। দীর্ঘ দেড় যুগের প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তৃণমূল পর্যায়ে স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। অনেক জেলা ও উপজেলায় বছরের পর বছর কাউন্সিল না হওয়ায় একই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ আঁকড়ে আছেন, যার ফলে নতুন নেতৃত্ব গড়ে ওঠেনি। কেন্দ্র থেকে প্রভাবশালী নেতাদের মাধ্যমে 'পকেট কমিটি' চাপিয়ে দেওয়ার প্রথা ভাঙার নির্দেশনা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কাউন্সিল সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং এবার সরাসরি কাউন্সিলরদের ভোটের মাধ্যমে সর্বসম্মত মতামতের ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তরুণ ও ত্যাগী, বিশেষ করে যারা বিগত আন্দোলনগুলোতে সক্রিয় ছিলেন এবং এলাকায় ক্লিন ইমেজ রয়েছে, এমন নেতাদেরই জেলা-উপজেলার শীর্ষ পদে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে হাইকমান্ড। এছাড়া নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের দৌরাত্ম্য রুখতে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। দল থেকে মনোনয়ন পাওয়ার পর কেউ যদি বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ান বা দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তারেক রহমান। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচনে দলটি একক প্রার্থী দেবে এবং দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ প্রার্থী হলে তার অতীতের প্রভাব যাই থাকুক না কেন, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক গোলাম হাফিজের মতে, এই নির্বাচন বিএনপির জন্য দীর্ঘ নির্বাসন থেকে ফিরে নিজেদের গণতান্ত্রিক গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণের বড় সুযোগ। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী মনে করেন, তৃণমূলের কোন্দল নিরসন ও বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ন্ত্রণ বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ, তবে সঠিক প্রার্থী বাছাই করতে পারলে তারা বড় সাফল্য পাবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন নতুন সরকারের জনপ্রিয়তা ও মাঠপর্যায়ের সক্ষমতা যাচাইয়ের প্রথম এসিড টেস্ট। কেন্দ্র থেকে একজনকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও দলেরই আরও ২-৩ জন নেতা স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়িয়ে যেতেন। ২০২৬ সালের তিন স্তরের নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত অমান্যকারী বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে বিএনপি। SHARES রাজনীতি বিষয়: তারেক-রহমানতৃণমূলবিএনপিরাজনীতিস্থানীয় সরকার নির্বাচন